লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির প্রভাবশালী ছেলে সাইফ আল–ইসলাম গাদ্দাফি গুলিতে নিহত হয়েছেন। ৫৩ বছর বয়সী সাইফ রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১৩৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে জিনতান শহরে নিজের বাসভবনে হামলার শিকার হন।
গাদ্দাফি পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র সৌদি মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম আল–আরাবিয়াকে জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চারজন সশস্ত্র ব্যক্তি সাইফ আল–ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করে। হামলার আগে তারা বাসভবনের নিরাপত্তা ক্যামেরা অচল করে দেয়। পরে বাড়ির বাগানে সাইফের মুখোমুখি হয়ে তাঁকে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয় সময় গভীর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে সাইফ আল–ইসলামের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী এ ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান ফেসবুকে এক পোস্টে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে লিখেছেন, ‘আমরা আল্লাহর এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাব। মুজাহিদ সাইফ আল–ইসলাম গাদ্দাফি আল্লাহর হেফাজতে আছেন।’
সাইফ আল–ইসলামের জীবন ছিল নাটকীয় উত্থান-পতনে ভরা। একসময় তাঁকে মুয়াম্মার গাদ্দাফির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হতো। বাবার শাসনামলে তিনি রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনায় ভূমিকা রাখেন। লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র ত্যাগ এবং ১৯৮৮ সালের লকারবি বিমান হামলায় নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আলোচনাতেও তাঁর নেতৃত্ব ছিল।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে পড়াশোনা করা এবং ইংরেজিতে সাবলীল হওয়ায় পশ্চিমা বিশ্বে তিনি একসময় লিবিয়ার ‘সংস্কারক’ ও গ্রহণযোগ্য মুখ হিসেবে পরিচিত হন। তবে ২০১১ সালে বাবার শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হলে তিনি পরিবার ও বংশের প্রতি অনুগত থাকাকে বেছে নেন এবং বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন।
বিদ্রোহীরা ত্রিপোলি দখল করার পর তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে একটি মিলিশিয়া বাহিনী তাঁকে মরুভূমি থেকে আটক করে জিনতানে নিয়ে যায়। সেখানে ছয় বছর বন্দিজীবন কাটান তিনি। যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ২০১৭ সালে সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি পেলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন।
২০২১ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অতীতের দণ্ডাদেশ ও রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে তাঁর প্রার্থিতা ঘিরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ে এবং লিবিয়া আবারও রাজনৈতিক অচলাবস্থায় ফিরে যায়।
এই প্রেক্ষাপটে সাইফ আল–ইসলামের হত্যাকাণ্ড লিবিয়ার জটিল রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও প্রশ্নের জন্ম দিল।




































