মরক্কোর ঐতিহাসিক শহর বন্যার ঝুঁকিতে, ৫০ হাজারের বেশি মানুষ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০২:২১ পিএম
মরক্কোর ঐতিহাসিক শহর বন্যার ঝুঁকিতে, ৫০ হাজারের বেশি মানুষ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

টানা ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যার মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে মরক্কোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহাসিক শহর কাসাব্লানকার কাছে অবস্থিত কাসার এল-কেবির। শহরটির প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা—৫০ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে কর্তৃপক্ষ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। খবর রয়টার্সের।

শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া লুক্কোস নদীর পানি দ্রুত বেড়ে আশপাশের এলাকায় ঢুকে পড়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় শহরে প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, তবে বাসিন্দাদের শহর ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হিশাম আজতু বলেন, "শহরটি এখন প্রায় ফাঁকা। সব দোকানপাট, বাজার বন্ধ। অনেকে নিজেরাই চলে গেছে, বাকিদের কর্তৃপক্ষ বহনযানে সরিয়ে নিয়েছে।"

বন্যার ঝুঁকির কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। স্কুলগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র ও অস্থায়ী শিবির স্থাপন করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, শহরের কাছে অবস্থিত উয়েদ মাখাজিন বাঁধ সম্পূর্ণ ভরে যাওয়ায় অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিতে হচ্ছে। এই পানি বন্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

মরক্কোর সেনাবাহিনী ব্যাপক উদ্ধার অভিযানে নেমেছে। সেনা সদস্য, চিকিৎসক দল, ট্রাক, হেলিকপ্টার ও বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। বাস ও ট্রাকের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধার করা হচ্ছে।

এদিকে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও নদীর পানি বাড়ছে। সেবু নদীর স্তর বৃদ্ধির কারণে সিদি কাসেম অঞ্চলের কয়েকটি গ্রাম থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সারাদেশে বন্যা সতর্কতা জারি করেছে।

টানা সাত বছর দীর্ঘ খরার পর মরক্কোতে এবার অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। এতে খরার ক্ষতি কমলেও এখন বন্যা, নদীভাঙন, বাঁধ উচ্ছাস ও ভূমিধসের মতো নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্ট ও অন্যান্য ত্রাণ সংস্থা মরক্কোতে সহায়তা প্রদানে এসেছে।

কাসার এল-কেবির ঐতিহাসিক গুরুত্ব: এই শহরটি মরক্কোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ঐতিহাসিক নগরী। ১২শ শতাব্দীর রাস্তা, প্রাচীন মসজিদ ও ঐতিহ্যবাহী বাজারের জন্য বিখ্যাত। বন্যার কারণে এই ঐতিহাসিক সম্পদগুলোরও ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ প্রত্নতাত্ত্বিক বিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পদ রক্ষার চেষ্টা জোরদার করেছে।

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ দিনরাত কাজ করছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে।

Link copied!