ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সপ্তাহখানেক আগে নির্বাচনি পরিবেশকে ‘যথেষ্ঠ ও তুলনামূলকভাবে ভালো’ বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
বুধবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ এ কথা বলেন
নির্বাচনে সংশ্লিষ্টদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ কেমন আছে প্রশ্নের জবাবে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, "আমরা মনে করি, নির্বাচনি পরিবেশ যথেষ্ট ভালো আছে, তুলনামূলকভাবে ভালো আছে তো অবশ্যই বলব।"
ভোটের পরিবেশ ভালো রাখতে দলগুলোর সহযোগিতা চান তিনি।
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, "আমরা সব রাজনৈতিক দলের কর্মী তাদের নেতৃত্বের নিকট এবং সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট আমরা আবেদন জানাই, তারাও একটা সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখার জন্য তারাও আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন এবং তাদের তরফ থেকে যে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার তারা সেটাই গ্রহণ করবে।"
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দুই ভোট উপলক্ষে ইসি সচিবালয় ও নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচনি কার্যক্রমের সমন্বয় বিষয়ক সভা হয় এদিন বেলা ১১টায়। চার নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন সেখানে।
নির্বাচনি কার্যক্রমের সমন্বয় বিষয়ক সভা সম্পর্কে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, "আজকের মিটিংয়ে সর্বশেষ আমাদের যে প্রস্তুতি এবং সে প্রস্তুতি সম্পর্কে জাস্ট আমরা অবহিত হলাম।"
নির্বাচনি বিধি ভঙ্গ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘অবনমন’ ও দুই দলের শীর্ষ নেতাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যেন বিষয়ে কমিশন কী ব্যবস্থা নিচ্ছে জানতে চাইলে কমিশনার মাছউদ বলেন, “পুরো দেশে
৩০০ জন জজের সমন্বয়ে ৩০০টি ইলেক্টোরাল ইনকয়ারি এবং এডজুডিকেশন কমিটি কাজ করছে। তা ছাড়া অনেক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।
"কাজেই আমরা মনে করি, যে কেউ যদি আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে, এই ধরনের যদি অভিযোগ কেউ করেন, অনুগ্রহপূর্বক ইলেক্টোরাল ইনকয়ারি এবং জুডিকেশন কমিটির কাছে আপনারা প্রতিকার চাইতে পারেন।”
তিনি আরও বলেন, “কোন একটা ইনফরমেশনের ভিত্তিতে তথ্যের ভিত্তিতে বা ওই কমিটির নিকট যদি কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করে, অভিযোগ ভিত্তিতে অথবা কোন রিপোর্টের ভিত্তিতে ইলেক্টরাল ইনকয়ারিয়াম এক্সিকিউটিং কমিটি এডজুডিকেশন কমিটি কাজ করছে, তারা বিষয়ট নিয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিবেন, তদন্ত সাপেক্ষে কমিশনের নিকট তাদের প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন, রিকমেন্ডেশন সুপারিশ প্রেরণ করবে, সেই মোতাবেক তাদের শাস্তি দেওয়া হবে বা তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
কমিশনার মাছউদ বলেন, ‘বহু ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বিভিন্ন জায়গায় বহু লোককে আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে ইতিপূর্বে শাস্তি দিয়েছেন, জরিমানাও করেছেন।’
যদি মোবাইল কোর্ট বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ নিজেরাই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকে, সে বিষয়ে ইসির পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যদি নির্বাচনের নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা নিজেই আচরণবিধি ভঙ্গ করেন বা আইন ভঙ্গ করেন বা তার ভেতরে পক্ষপাতিত্ব বা দেখা দেয়, তাহলেও যে কেউ ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি এবং এডজুডিকেশন কমিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।”
এই নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ‘আর যদি খুব গুরুতর কোনো বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নিজেও তা আমলে নিতে পারেন এবং একটা কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ নিতে পারে।’
কোনো প্রার্থী যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা কোন বিশেষ বাহিনীর সদস্যের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বা যেখানে যাওয়ার সুযোগ নেই সেখানে যদি যাওয়ার চেষ্টা করেন, সেটা আচরণ ভঙ্গ হয় কী না জানতে চাইলে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, "এই প্রশ্নটা খুব জটিল প্রশ্ন। দুর্ব্যবহার কি ধরনের দুর্ব্যবহার, আইনের সেই দুর্ব্যবহার যদি আইনের কাঠামোতে যদি আচরণবিধি ভঙ্গ বোঝা যায়, তাহলে তারা নিশ্চয়ই তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।"
তিনি বলেন, "এটা এটা ফ্যাক্টস টু ফ্যাক্টস, কেস টু কেস ভিত্তিতে বলতে হবে। একেবারে ইউনিফর্ম একটা কথা কিন্তু বলা যাবে না।"
সেনাবাহনীর সদস্যের সঙ্গে ঢাকা-১৭ আসনের এক প্রার্থীর দুর্ব্যবহার এবং অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা বিধি ভঙ্গ করে কী না জানতে চাইলে কমিশনার মাছউদ বলেন, “বিষয়টা সবই তদন্তের বিষয়। কেউ যদি ক্ষুব্ধ হন, তাহলে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি এবং এডজুডিকেশন কমিটির কাছে তারা অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। এবং সেই কমিটি ঘটনার সত্যটা যদি পান এবং যদি দেখেন যে কেউ কোনো ব্যক্তি বা কোনো প্রার্থী বা কোনো ভোটার যে কেউ হোক তিনি আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন, তাহলে তিনি প্রমাণ সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য কমিশনের নিকট সুপারিশ করবেন এবং কমিশন সে মোতাবেক তারপর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুর পর ওই আসনের নির্বাচন বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারিতে এই নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, তফসিল ঘোষণা করতে হবে কমপক্ষে ১৫ দিন সময় দিয়ে। আপিলের সময় আছে, স্ক্রুটিনির সময় আছে, কাজেই এই নির্বাচন কখন হবে এই মুহূর্তে এখন আমরা ঘোষণা দিতে পারছি না।"


































