ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন শুধু বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেত্রীই নন, তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ভারতের মুখ। ১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ড খেতাব জয়ের পর তাঁর অভিনয়যাত্রা যেমন গৌরবময়, তেমনি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তাঁকে ঘিরে আলোচনা কম হয়নি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রযোজক শৈলেন্দ্র সিং ঐশ্বরিয়ার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের নানা অজানা তথ্য এবং সালমান খানের সঙ্গে তাঁর বহুল আলোচিত সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন।
সিদ্ধার্থ কান্নানের সঙ্গে আলাপচারিতায় শৈলেন্দ্র সিং জানান, কিশোরী বয়সেই প্রথমবার ঐশ্বরিয়াকে দেখেছিলেন তিনি। তাঁর ভাষায়,
“মেরিন ড্রাইভে আমি ঐশ্বরিয়াকে দেখি, তখন তার বয়স ১৮ বা ১৯। সন্ধ্যা সাড়ে আটটায় সে তার বাবা–মায়ের সঙ্গে আমার ও কুণাল কাপুরের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। মাত্র ৫,০০০ টাকার বিনিময়ে সে আমাদের প্রথম তিনটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছিল।”
তিনি আরও জানান, ঐশ্বরিয়ার প্রথম বিজ্ঞাপনগুলোর মধ্যে ছিল মুকেশ মিলসে শুট করা একটি বিজ্ঞাপন, এরপর মালবিকা তিওয়ারির সঙ্গে অ্যালোভেরা হেয়ার অয়েলের বিজ্ঞাপন এবং পরে অর্জুন রামপালের সঙ্গে আরেকটি বিজ্ঞাপন। “এভাবেই তার যাত্রা শুরু,” বলেন শৈলেন্দ্র।
ঐশ্বরিয়ার ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে প্রযোজক বলেন,
“সে একজন অসাধারণ মানুষ—অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ, ভদ্র ও সুন্দর মনের। আমার মনে হয়, এমন মানুষেরাই আমাদের ইন্ডাস্ট্রির কণ্ঠস্বর হওয়া উচিত। বলিউডের প্রকৃত ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর কারা—এই প্রশ্ন আমি প্রায়ই করি।”
একই সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া রাই ও সালমান খানের সম্পর্ক প্রসঙ্গেও কথা বলেন শৈলেন্দ্র সিং। তিনি জানান, একসময় দুজনের সঙ্গেই তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিল। গভীর রাতে ঐশ্বরিয়ার বাড়ির বাইরে সালমানের উপস্থিতির একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন,
“রোমিও ও জুলিয়েটের মতোই এটা ছিল এক ধরনের হিংস্র প্রেমের গল্প। সালমান ছিলেন ভীষণ আবেগপ্রবণ, আর ঐশ্বরিয়া ছিলেন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানজনক একজন মানুষ। আমি যতটা তাকে চিনি, সে সবসময়ই সংযত ও শ্রদ্ধাশীল।”
তবে ঐশ্বরিয়া ব্যক্তিগতভাবে কখনো এসব বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন কি না—এমন প্রশ্নে শৈলেন্দ্র পরিষ্কার করেন,
“না, আমরা এতটা ঘনিষ্ঠ ছিলাম না। সে খুবই ব্যক্তিগত মানুষ। আমার মনে হয়, তার ব্যক্তিগত জীবনকে আমাদের সম্মান করা উচিত।”
সাক্ষাৎকারে শৈলেন্দ্র সিং সালমান খানের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন। ‘ক্যাপ্টেন’ নামে একটি ছবি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে এক বৈঠকে নিজেকে অপমানিত মনে হয়েছিল বলে জানান তিনি। শৈলেন্দ্র বলেন,
“আমাদের বন্ধুত্ব খুব গভীর ছিল। কিন্তু সেই বৈঠকের পর আর কখনো সালমানের সঙ্গে দেখা হয়নি। আমি সত্যিই আঘাত পেয়েছিলাম।”
-টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে




































