হোয়াইট হাউসে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রো

ট্রাম্পের সঙ্গে ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ’ বৈঠক


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
ট্রাম্পের সঙ্গে ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ’ বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে উভয় নেতা জানান, আলোচনা ছিল ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ’ এবং ইতিবাচক।

এর আগে বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছিলেন, আদর্শগতভাবে বিপরীত মেরুতে অবস্থান করা ট্রাম্প ও পেত্রোর এই সাক্ষাৎ খুব একটা স্বস্তিকর নাও হতে পারে। কারণ, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই নেতা প্রকাশ্যে একে অপরকে কটাক্ষ করেছেন। তবে সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন ট্রাম্প ও পেত্রো। অন্যান্য বিদেশি নেতাদের সফরের মতো আনুষ্ঠানিক আয়োজন বা জাঁকজমক এ সফরে দেখা যায়নি। বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতিও অনুমোদন করা হয়নি। পরে দুজনই আলাদাভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।

হোয়াইট হাউসের বৈঠকে কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি বা সমঝোতা হয়েছে কি না, তা দুই প্রেসিডেন্টের কেউই নিশ্চিত করেননি। তবে বৈঠক নিয়ে উভয়েই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, কলম্বিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার ঠেকানোর বিষয়ে তাঁরা একসঙ্গে কাজ করছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা এ বিষয়ে কাজ করেছি এবং আমাদের সম্পর্কও ভালো হয়েছে। তিনি আর আমি আগে খুব ভালো বন্ধু ছিলাম না। তবে আমি অপমানিত বোধ করিনি, কারণ এর আগে কখনোই তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়নি।’

বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন গুস্তাভো পেত্রো। সেখানে ট্রাম্পের হাতে লেখা একটি নোট দেখা যায়—‘গুস্তাভো—এটা একটি বড় সম্মান। আমি কলম্বিয়াকে ভালোবাসি।’ পোস্টে দুই নেতার করমর্দন ও হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকার ছবিও যুক্ত করা হয়।

কলম্বিয়ার রেডিও স্টেশন কারাকোলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেত্রো বলেন, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে তিনি যেসব বিষয়কে তীব্র মতবিরোধ বলে মনে করতেন, বাস্তবে সেগুলোর তেমন প্রতিফলন দেখেননি। তাঁর মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে নয়, বরং অন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গেই মতপার্থক্য বেশি ছিল।

পেত্রো জানান, কলম্বিয়ার বাইরে অবস্থান করা বড় মাদক পাচারকারীদের গ্রেপ্তারে সহায়তার জন্য তিনি ট্রাম্পের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ইকুয়েডরের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে ট্রাম্প ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়ার সঙ্গে কথা বলতে সম্মত হয়েছেন বলেও জানান পেত্রো।

এর আগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ঘটনায় ট্রাম্প ও পেত্রোর সম্পর্ক চরমভাবে অবনতি ঘটে। সে সময় ট্রাম্প পেত্রোকে উদ্দেশ করে কড়া ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। এর জবাবে পেত্রোও মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।

তবে সব টানাপোড়েন পেছনে ফেলে হোয়াইট হাউসে এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে ইতিবাচক ধারায় ফেরাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরো খবর

Link copied!