তামিল সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের ক্যারিয়ারে বিতর্ক যেন নতুন নয়। অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদে রূপ নেওয়া এই তারকার সবশেষ সিনেমা ‘জন নায়গান’ ইতিমধ্যে সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনের (সিবিএফসি) আইনি জটিলতায় আটকে গেছে। ফলে মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে বিজয়ের সিনেমাজীবনে আর্থিক, রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিতর্ক বহুবারই সামনে এসেছে। ফিরে দেখা যাক, তাঁর ক্যারিয়ারে যেসব ছবি ঘিরে আলোচনার ঝড় উঠেছিল—
‘সুরা’ (২০১০)
বিজয়ের ৫০তম ছবি ‘সুরা’র প্রাথমিক নাম ছিল ‘সুরা—দ্য লিডার’। ট্যাগলাইন নিয়ে আপত্তি ওঠায় শেষ পর্যন্ত শুধু ‘সুরা’ নামেই ছবি মুক্তি পায়। প্রত্যাশা থাকলেও ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয় এবং সমালোচকদের নেতিবাচক রিভিউয়ের মুখে পড়ে।
‘কাভালান’ (২০১১)
‘সুরা’র ব্যর্থতার জেরে আর্থিক সংকটে পড়ে বিজয় ও অসিন অভিনীত ‘কাভালান’। প্রযোজক রমেশ বাবু ও পরিবেশক শক্তি চিদাম্বরমের মধ্যে আর্থিক দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। সান টিভির স্যাটেলাইট স্বত্ব সংক্রান্ত অর্থ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। শাসক দল ডিএমকে ও সান নেটওয়ার্কের ঘনিষ্ঠতা নিয়েও রাজনৈতিক অভিযোগ ওঠে। প্রাথমিকভাবে কিছু শো বাতিল হলেও পরে ছবিটি মুক্তি পায়।
‘থুপ্পাক্কি’ (২০১২)
এ আর মুরুগাদোস পরিচালিত এই ছবি মুসলিম সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের মুখে পড়ে। অভিযোগ ছিল, ছবিতে মুসলিম সম্প্রদায়কে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে নির্মাতা, প্রযোজক এবং বিজয়ের বাবা এস এ চন্দ্রশেখর প্রায় ২৩টি মুসলিম সংগঠনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি কিছু দৃশ্য বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
‘থালাইভা’ (২০১৩)
রাজনৈতিক কারণে ছবিটির মুক্তি এক সপ্তাহ পিছিয়ে যায়। ট্যাগলাইন ‘টাইম টু লিড’ নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। সে সময়ের মুখ্যমন্ত্রী জে জয়ললিতার অসন্তোষের কথাও প্রকাশ্যে আসে। বিজয় ভিডিও বার্তায় থিয়েটার মালিকদের হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন। তামিলনাড়ুর বাইরে ছবিটি মুক্তি পায়।
‘কাথথি’ (২০১৪)
লাইক প্রোডাকশনের প্রযোজনায় নির্মিত হওয়ায় এই ছবি ঘিরে প্রতিবাদ শুরু হয়। প্রযোজনা সংস্থার শ্রীলঙ্কান সংযোগ নিয়ে আপত্তি তোলে একাধিক তামিল সংগঠন। প্রযোজকের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাও বিতর্কের জন্ম দেয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে কিছু প্রেক্ষাগৃহে ভাঙচুর হয় এবং লাইক প্রোডাকশনের ব্র্যান্ডিং সরিয়ে নেওয়া হয়।
‘পুলি’ (২০১৫)
ছবি মুক্তির আগে প্রযোজকদের ওপর আয়কর বিভাগের হানায় প্রথম দিনের সকালের শো বাতিল হয়। বিকেলে মুক্তি পেলেও ছবিটি নেতিবাচক সমালোচনার মুখে পড়ে। পরে প্রযোজক পি টি সেলভাকুমার দাবি করেন, এই ছবি তাঁর ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
‘মার্শাল’ (২০১৭)
দীপাবলিতে মুক্তি পাওয়া ‘মার্শাল’ জিএসটি ও ডিজিটাল ইন্ডিয়া নিয়ে সংলাপের কারণে বিজেপির আপত্তির মুখে পড়ে। এক বিজেপি নেতা বিজয়ের জন্মনাম টেনে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়। পাশাপাশি চিকিৎসকদের নেতিবাচকভাবে দেখানোর অভিযোগে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনও আপত্তি তোলে। সব বিতর্ক ছাপিয়ে ছবিটি বক্স অফিসে সুপারহিট হয়।
‘সরকার’ (২০১৮)
এই ছবি নিয়ে তামিলনাড়ু সরকার আপত্তি তোলে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতাকে কটাক্ষ করার অভিযোগ ওঠে। শাসক দলের চাপে কয়েকটি বিতর্কিত দৃশ্য বাদ দেওয়া হয়।
‘জন নায়গান’
দীর্ঘদিন পর আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে বিজয়ের সিনেমা। তাঁর অভিনীত শেষ ছবি ‘জন নায়গান’ বর্তমানে সেন্সর জটিলতায় আটকে আছে। অনেকের মতে, এই বিতর্কের পেছনে সিনেম্যাটিক কারণের চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাবই বেশি কাজ করছে। বিজয় সক্রিয় রাজনীতিতে না এলে হয়তো ছবিটি এত বাধার মুখে পড়ত না এবং নির্ধারিত সময়েই মুক্তি পেত।
ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে




































