কুখ্যাত জেফ্রি এপস্টেইনকে কতটা জানেন?


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
কুখ্যাত জেফ্রি এপস্টেইনকে কতটা জানেন?

নিজেকে কখনো ‘যৌন শিকারি’ হিসেবে মানতে চাননি জেফ্রি এপস্টেইন। ২০১১ সালে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তিনি একজন ‘অপরাধী’—তবে খুনি আর চোরের পার্থক্যের মতোই তার অপরাধ দেখা উচিত। অথচ বাস্তবতা অন্যরকম। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ও ভয়াবহ যৌন অপরাধ কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এই ধনকুবের।

শিক্ষক থেকে কোটিপতি
নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণকারী এপস্টেইন ১৯৭০-এর দশকে অভিজাত ডাল্টন স্কুলে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষকতা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও স্নাতক শেষ করেননি। এক শিক্ষার্থীর বাবার সুপারিশে ওয়াল স্ট্রিটে প্রবেশ করেন। অল্প কয়েক বছরেই বিনিয়োগ ব্যাংক বিয়ার স্টার্নসে অংশীদার হন এবং ১৯৮২ সালে নিজের প্রতিষ্ঠান ‘জে এপস্টেইন অ্যান্ড কো’ গড়ে তোলেন। একসময় তার প্রতিষ্ঠান এক বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ পরিচালনা করত। এর সুবাদে নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা ও নিউ মেক্সিকোতে প্রাসাদসম সম্পত্তির মালিক হন।

ক্ষমতার বলয় ও প্রভাবশালী সখ্যতা
অঢেল সম্পদের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতা, শিল্পী ও সেলেব্রিটিদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ‘দারুণ মানুষ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। বিল ক্লিনটন, কেভিন স্পেসি, হার্ভি ওয়াইনস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং যুক্তরাজ্যের প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে বন্ধুত্ব বিশ্বব্যাপী বিতর্ক সৃষ্টি করে। এই সম্পর্কের জেরে প্রিন্স অ্যান্ড্রু রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।

ভয়াবহ অভিযোগ ও বিতর্কিত সমঝোতা
২০০৫ সালে ফ্লোরিডায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে প্রকাশ পায়, বহু বছর ধরে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নির্যাতনের একটি নেটওয়ার্ক চালাতেন তিনি। ২০০৮ সালে ফেডারেল প্রসিকিউটরদের সঙ্গে বিতর্কিত সমঝোতায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পরিবর্তে মাত্র ১৮ মাসের সাজা পান—তাও ‘ওয়ার্ক রিলিজ’ সুবিধাসহ। এই চুক্তিকে মার্কিন গণমাধ্যম ‘শতাব্দীর সমঝোতা’ বলে আখ্যায়িত করে।

দ্বিতীয় গ্রেফতার ও রহস্যজনক মৃত্যু
২০১৯ সালের জুলাইয়ে প্যারিস থেকে নিউইয়র্কে ফেরার পর আবার গ্রেফতার হন। এবার অভিযোগ ছিল আন্তঃরাজ্য যৌন পাচার। কিন্তু ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের উচ্চ-নিরাপত্তা কারাগারে বিচার শুরুর আগেই মৃত্যুবরণ করেন। এই মৃত্যু নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জন্ম দেয়।

এপস্টেইন ফাইলস ও রাজনৈতিক বিতর্ক
২০২৫ সালে মার্কিন কংগ্রেস ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ পাস করে। প্রকাশিত নথিগুলোতে তার বিলাসী জীবন, প্রভাবশালী যোগাযোগ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র ফুটে ওঠে। তবে সব তথ্য প্রকাশের অভাবে বিরোধী রাজনৈতিক শিবির অভিযোগ করে।

ম্যাক্সওয়েল মামলা: আইনি অধ্যায়ের সমাপ্তি?
এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েল ২০২১ সালে যৌন পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড পান। আদালতে তিনি বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গেই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। ম্যাক্সওয়েলের সাজা ঘোষণার মধ্য দিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার বড় অংশ শেষ হলেও, জেফ্রি এপস্টেইন নামটি ক্ষমতা, অপরাধ ও বিচারহীনতার প্রতীক হয়ে রয়ে গেছে।

Link copied!