এপস্টেইনের সঙ্গে জোহরান মামদানির শৈশবের ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
এপস্টেইনের সঙ্গে জোহরান মামদানির শৈশবের ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি

ফেসবুকে জোহরান মামদানির শৈশবের ছবির সঙ্গে জেফরি এপস্টেইনকে দেখিয়ে বিভিন্ন ভুয়া দাবিতে ছড়ানো ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। ডিসমিস ল্যাবের একটি বিশদ প্রতিবেদনে এই ছবির সত্যতা যাচাই করে দেখা গেছে, এটি সম্পূর্ণ এআই-সম্পাদিত এবং কোনো বাস্তব ঘটনার প্রতিফলন নয়। গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ফেসবুকের একাধিক প্রোফাইল থেকে এটি পোস্ট হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে এপস্টেইনের পেছনে দাঁড়ানো শিশুটি জোহরান মামদানি এবং তাকে এপস্টেইনের অবৈধ সন্তান বলে চিত্রিত করা হয়েছে।

 

ছবিতে দেখা যায় বাম থেকে গিসলাইন ম্যাক্সওয়েল (যৌন পাচারের অপরাধে কারাবন্দী), জেফরি এপস্টেইন, বিল ক্লিনটন, বিল গেটস এবং জেফ বেজোসের মতো ব্যক্তিদের সামনে চলচ্চিত্র নির্মাতা মিরা নায়ার এবং তার সন্তান জোহরান মামদানি দাঁড়িয়ে আছেন। একটি পোস্টে ক্যাপশন: "পেডোফাইল এপস্টেইন যে শিশুটির পেছনে দাঁড়িয়েছে, বলেন তো সে শিশুটি কে? ধারণা করা হচ্ছে ছেলেটি এপস্টেইনের অবৈধ সন্তান… আপনি কিন্তু ফেইন্ট হয়ে যাবেন।" আরেকটিতে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যুক্ত করে বলা হয়েছে, "এপস্টেইনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটি জোহরান মামদানি… জামাতের ঢাকার এক নেতার সঙ্গে তার সম্পর্ক আছে।" এই ধরনের পোস্টগুলো মুসলিম সম্প্রদায়ের আবেগকে উস্কে দিতে ব্যবহার করা হয়েছে।

 

ছবির সত্যতা যাচাইয়ে প্রথমে এপস্টেইন ফাইলের একটি ২০০৯ সালের ২১ অক্টোবরের ইমেইল ছবি পাওয়া যায়, যা মার্কিন বিনোদন প্রচারক পেগি সিগাল এপস্টেইনকে পাঠিয়েছিলেন। ইমেইলে গিসলাইনের টাউনহাউসের সিনেমা আফটার পার্টির কথা বলা হয়েছে, যেখানে বিল ক্লিনটন, জেফ বেজোস, জিন পিগোজি এবং মিরা নায়ারের নাম উল্লেখ আছে—কিন্তু বিল গেটসের নাম নেই এবং জোহরান মামদানির কোনো উল্লেখ নেই। রিভার্স ইমেজ সার্চে মিরা নায়ার ও জোহরানের অংশটি ২০০৪ সালের একটি ছবির সাথে মিলে যায়, যেখানে তাদের পোশাক, ব্যাগ ও ওড়নার রং একই কিন্তু অবস্থান ভিন্ন। গুগল জেমিনির SynthID টুলে যাচাই করলে ছবির বেশিরভাগ অংশ এআই-জেনারেটেড বলে প্রমাণিত হয়েছে, কনফিডেন্স লেভেল "খুবই উচ্চ" এবং হিটম্যাপে নীল গ্রিড দিয়ে চিহ্নিত। হাইভ মডারেশন টুলও ১০০% এআই-জেনারেটেড বলে নিশ্চিত করেছে।

 

এই ছবি ছড়ানোর পেছনে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্য রয়েছে, বিশেষ করে জোহরান মামদানিকে "নিউ ইয়র্কের খলিফা" বলে উপহাস করে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে। প্রসঙ্গত, গত ৩০ জানুয়ারি মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টেইনের ৩০ লাখের বেশি নথি, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে, যা এই ভুয়া ছবির প্রচারের পটভূমি তৈরি করেছে। এই ধরনের কনটেন্ট এড়িয়ে যাচাই না করে শেয়ার না করাই ভালো।

Link copied!