• ঢাকা
  • রবিবার, ২৩ জুন, ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১, ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

দীর্ঘমেয়াদী রোগ থেকে রক্ষা করবে তিসির তেল


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৪, ০৫:৪১ পিএম
দীর্ঘমেয়াদী রোগ থেকে রক্ষা করবে তিসির তেল
ছবি: সংগৃহীত

তিসির বৈজ্ঞানিক নাম Linum Usitatissimum। যা একপ্রকার গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। এটি মূলত শস্য বীজ। দেশে ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে এই শস্য বীজের ফসন ভালো হয়। তিসির বীজ গাছের প্রতিটি অংশই উপকারী। তিসির গাছের বাকল বা আঁশ থেকে লিনেন জাতীয় কাপড় তৈরি করা হয়। তিসির ফুল ঔষুধি কাজে লাগে। আর তিসির ফল মানে তিসির বীজ থেকে আমরা তিসির তেল পাই। যা ছোট থেকে বড় সবার স্বাস্থ্যের জন্যই উপকারী।

আদিম সভ্যতা থেকেই মানুষ নানা কাজে তিসির তেল ব্যবহার করে আসছে। ইউরোপের দেশ গুলোতে এই তেলের ব্যবহার বেশি ছিল। যা পরবর্তী সময়ে এশিয়ার দেশ গুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমান সময়ে তিসির তেলের উপকারিতার জন্য় অনেকের কাছেই এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

 তিসির তেলে অনেক পুষ্টি-গুণ রয়েছে। তবে তিসির বীজ থেকে আমরা ফাইবার ও জিংক পাই। আর তিসির তেলে মূল হচ্ছে ওমেগা ফ্যাটি -৩ এসিড। যা মাছের তেল থেকে পাওয়া যায়। আরও রয়েছে ALA( alpha linolenic acid), DHA, EPH এসিড, এন্টিঅক্সিডেন্ট, বিটা – ক্যারটিন, ভিটামিন -ই, কে, ফ্যাটি এসিড, লিপিড। এসব পুষ্টিগুণ শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন একজন র্পূর্ণ বয়স্ক মানুষের ১১০০ মিলি গ্রাম করে এসব পুষ্টিগুণ প্রয়োজন। তাই প্রতিদিন অন্তত এক চা-চামচ তিসির তেল সেবন করা জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রতিদিন অন্তত এক চা-চামচ তিসির তেল সেবন করলে  ১২০ ক্যালরি, ০.০১  গ্রাম প্রোটিন, ১৩.৬ গ্রাম ফ্যাট, ৭.৬ গ্রাম ওমেগা -৩ ফ্যাটি এসিড, ২.১ গ্রাম ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড পাওয়া যাবে।

এছাড়াও স্বাস্থ্য উপকারিতায় তিসির তেলের জুড়ি নেই। যেমন_

·        নিয়মিত তিসির তেল  সেবন করলে দেহের অনেক ক্ষতিকর জীবাণু বা মারাত্মক রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

·        ওজন কমানোর জন্য ডায়েট চার্টে তিসির তেল যুক্ত করা যেতে পারে। এটি শরীরের কোলন সিস্টেম উন্নত করে এবং পাকস্থলীর হজমে সহয়তা করে। শরীর থেকে বিষাক্ত টক্সিন বের করে দেয়।

·        কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে তিসির তেল। বাইরের খাবার খেয়ে পেটে গ্যাসের সমস্যা হলে কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য হলে প্রতিদিন তিসির তেল খেতে হবে।

·        আবার ডায়রিয়ার সমস্যার সমাধানেও তিসির তেল খেতে পারেন। এটি মেটাবলিজম সিস্টেম উন্নত করতে সাহায্য করে।

·        তিসির তেল ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এটি প্রাকৃতিক ভাবে ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে। এতে থাকা  ALA (alpha linolenic acid) শরীরে ক্যান্সারের কোষ তৈরিতে বাধা দেয়। ২০১৫ সালে দ্যা জার্নাল নিউট্রিশন এন্ড ক্যান্সার সাপোর্ট এর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, কম মূল্যে এবং কার্যকরি ক্যান্সারের প্রতিরোধ তৈরি করার উপায় হচ্ছে নিয়মিত তিসির তেল খাওয়া।

·        তিসির তেল হার্ট ভালো রাখে। এটি হার্টকে সুস্থ রাখে এবং হার্টজনিত সকল রোগকে দূরে রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, যদি কোন ব্যক্তি প্রতিদিন ১.৫ গ্রাম তিসির তেল সেবন করেন তবে তার ৫০ শতাংশ হার্টের স্বাস্থ্য ঝুকি কমে যায়।

·        তিসির তেল সোগেনস রোগেরও প্রতিকারক। এই রোগের কারণে চোখের কোণা গুলো লাল হওয়া, মুখের ভিতর শুকিয়ে যায়, দাতের মাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, শরীরের টিস্যু গুলো ক্ষতি হয়। নিয়মিত তিসির তেল সেবনে এই রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

·        তিসির তেল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। গবেষণায় দেখা যায়, হাই- কোলেস্টেরল  একজন রোগী। যদি প্রতিদিন এক চা-চামচ তিসির তেল খেলে ১২ সপ্তাহের মধ্যে কোলেস্টেরলের মাএা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

·        তিসির তেল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে।  দৈনিক  ১৩ গ্রাম তিসির তেল খেলে মাএ এক সপ্তাহের মধ্যেই ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তিসির তেল সেবন জরুরি।

Link copied!