সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিট। হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে সংবর্ধনা মঞ্চের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। তবে দর্শক-সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। মাঝের দুই গ্যালারি ছিল একেবারেই ফাঁকা। হাতে গোনা কয়েকজন দর্শকের একজন ইমরান হোসেন। কেন এসেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মেয়েরা ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তাদের দেখতে এসেছি।’ ফুটবল না ফুটসাল—এমন প্রশ্নে হেসে উত্তর, ‘আরে ভাই, ফুটসাল কী! ফুটবলই তো।’
ইমরানের মতো অনেকের কাছেই ফুটসাল এখনো অপরিচিত। তবে সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে সাবিনা খাতুনদের শিরোপা জয় এ খেলাকে দেশে পরিচিত করে তুলবে বলে মনে করেন সাবেক নারী ফুটবলার মাহমুদা শরিফা। তাঁর ভাষায়, ‘ফুটসালে আমাদের পথচলা নতুন। ঋতুপর্ণা-তহুরারা যেভাবে খেলছে, তাতে ভবিষ্যতে মানুষের আগ্রহ বাড়বে বলেই আশা করছি।’
বিশ্বে প্রায় ৯৫ বছর পুরোনো হলেও বাংলাদেশে ফুটসালের যাত্রা শুরু হয় ২০১৮ সালে। তখন একবার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পর নারী ফুটসাল দল কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। প্রায় আট বছর পর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আবার নারী ফুটসাল দল গঠন করে। প্রথম টুর্নামেন্টেই অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বে থাইল্যান্ড থেকে শিরোপা জিতে দেশে ফেরে দলটি।
চ্যাম্পিয়নদের বরণে বাফুফের আয়োজনেও ছিল জাঁকজমক। বিমানবন্দরে ফুলেল সংবর্ধনার পর ছাদখোলা বাসে করে দলকে আনা হয় হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে। এর আগে ২০২২ ও ২০২৪ সালে সাফ নারী ফুটবল দলের সাফল্যেও এমন সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে সেবারের মতো রাজপথে জনসমাগম বা উৎসবের আবহ এবার দেখা যায়নি।
দর্শক উপস্থিতি কম হলেও শিরোপা জয়ের আনন্দে ঘাটতি ছিল না সাবিনাদের। ছাদখোলা বাসে গান আর নাচে উদ্যাপন করেন তাঁরা। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলেন, ‘সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। ম্যাচ জয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশের মানুষের ভালোবাসা দেখি, সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা পাই। মেয়েদের খেলতে ও জিততে আগ্রহ বাড়ে। সেই জায়গা থেকেই এই ট্রফি দেশের মানুষের জন্য।’
একই অনুভূতির কথা জানান দলের ইরানি কোচ সাঈদ খোদারাহমি। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরদিনই ঢাকায় ফিরলেও দলকে স্বাগত জানাতে তিনি বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘মেয়েরা দারুণ খেলেছে। প্রথমবার অংশ নিয়েই শিরোপা জিতবে, তা ভাবিনি। আমি সত্যিই খুব আনন্দিত।’





































