কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে সরকার নতুন নীতিমালা জারি করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা-২ শাখা থেকে প্রকাশিত এই নীতিমালায় প্যারোলের শর্ত, সময়সীমা, কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা এবং পূর্ববর্তী নীতিমালা বাতিলের বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে। সোমবার সহকারী কারা মহাপরিচালক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য দেন।
সাধারণ নীতিমালা: আত্মীয়ের মৃত্যুতে প্যারোল
সকল শ্রেণির কয়েদি-হাজতিদের নিকট আত্মীয় যেমন বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি এবং ভাই-বোনের মৃত্যুতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোল দেওয়া যাবে। আত্মীয়ের মৃত্যুর বাইরে আদালতের আদেশ বা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে প্যারোল মঞ্জুর হবে। উভয় ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনায় প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ সময় নির্ধারণ করবেন এবং বন্দিকে সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরায় রাখতে হবে। সময়সীমা সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা হবে যদিও বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার হ্রাস-বৃদ্ধি করতে পারবে।
প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ ও দূরত্ব নিয়ম
জেলার বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হবেন। জেলার কেন্দ্রীয়/জেলা/বিশেষ কারাগারে আটক থাকলে সেই জেলার অভ্যন্তরে যেকোনো স্থানে মঞ্জুর হবে। অন্য জেলার কারাগারে থাকলে গন্তব্যের দূরত্ব বিবেচনায় মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন কিন্তু দুর্গমতা, যোগাযোগ, দূরত্ব ও নিরাপত্তা বিবেচ্য। পুলিশ প্যারোলে মুক্ত বন্দিকে ফাঁক থেকে বুঝে নিয়ে অনুমোদিত সময়ের মধ্যে কারাগারে ফেরত দেবে।
পূর্ববর্তী নীতিমালা বাতিল
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা-২ শাখা থেকে ২২-০৯-২০০৭ (স্ব: ম:(কারা-২)/বিবিধ-১৬/২০০৭/৩৮৮) এবং ০৪-০৩-২০১০ (স্ব: ম: (কারা-২) বিবিধ-১৬/২০০৭/৭৭) স্মারকমূলক নীতিমালা বাতিল হয়েছে। এই নতুন নীতিমালা অনুসরণ করে সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নীতিমালা কারাবন্দিদের প্যারোল প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সুনির্দিষ্ট করবে।


























