কাশেম শাহরিয়ার

তারেক রহমানের কাছে মানুষের প্রত্যাশা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১১:২২ এএম
তারেক রহমানের কাছে মানুষের প্রত্যাশা

চায়ের দোকানে বসে এক কাপ চা খাচ্ছি। পাশে দুজন লোক কথা বলছে। একজন বলল, “তারেক রহমান ফিরেছে। এবার কী হবে জানি না।” আরেকজন বলল, “হবে বৈকি। প্রশ্ন হলো, আমরা তারেক ভাইয়ের কাছ থেকে ঠিক কী চাই?” চা শেষ করে আমি উঠি। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়, বাংলাদেশের এই সময়টা একটা গল্পের মতো। শেখ হাসিনার আমল শেষ হয়েছে। ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছিল। ইউনুস সাহেবের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চালাচ্ছে দেশ। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ নির্বাচন আসছে। তারেক রহমান লন্ডন থেকে ফিরে এসেছে ১৭ বছর পর। বিএনপির চেয়ারম্যান। মানুষের চোখ তার দিকে। আশা আছে। কিন্তু সেই আশা কীসের জন্য? সেটা নিয়ে আজ ভাবি। হুমায়ূন আহমেদের গল্পের মতো সহজ করে বলব। জটিল কথা নয়। শুধু মনের কথা।

 

তারেক রহমান কেন এত আলোর কেন্দ্রে?

তারেক রহমানকে লোকজন কেন দেখছে এত জোরে? তার বাবা তো জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতার নায়ক। যিনি যুদ্ধক্ষেত্রে লড়েছিলেন। পরে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। মা খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। কিন্তু মানুষ তাকে ভালোবাসে। কারণ তিনি লড়াই করেছেন। তারেক নিজে লন্ডনে থেকে দল চালিয়েছে। ২০২৪ নির্বাচন বয়কট করিয়েছে। আওয়ামী লীগকে সরাতে সাহায্য করেছে। এখন নির্বাচনের সময় এসেছে। বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি আলাদা পথ নিয়েছে। আওয়ামী লীগকে ব্যান করা হয়েছে। মানুষ ভাবছে, তারেক এলে দেশটা কেমন চলবে? দারিদ্র্য কমবে? চাকরি মিলবে? শান্তি থাকবে? নিরাপদ থাকবে সবাই?

 

একটা গল্প মনে পড়ে। গ্রামের এক ছেলে ছিল। বাবা মারা গেছে যুদ্ধে। মা একা লড়াই করছে। ছেলে বিদেশ গেছে পড়তে। অনেক বছর পর ফিরেছে। গ্রামের লোক বলছে, “তুই এখন আমাদের নেতা। দেশ বদলে দে।” ছেলে বলছে, “চেষ্টা করব।” তারেক রহমানের গল্পও তেমন। লোকজন তার কাছে আশা করে। কারণ সে জানে কষ্ট কী। সে লড়েছে। এখন সময় তার প্রমাণ করার।

 

শান্তি আর স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা

প্রথম যে প্রত্যাশাটা সবাই করে, সেটা শান্তি আর স্থিতিশীলতা। গত দেড় বছরে অনেক বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। কিছু জায়গায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কিন্তু বড় দাঙ্গা হয়নি। তবু মানুষ চায় দৃঢ় শাসন। রাস্তায় শান্তি। দোকান খুলে বসতে পারবে। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাবে ভয় ছাড়া। তারেক বলেছে, “বাংলাদেশ ফার্স্ট”। মির্জা ফখরুল বলেছে, নির্বাচন লিবারেল পথ বেছে নেবে, না এক্সট্রিমিস্টদের হাতে দেশ দেবে।

 

তারেকের কাছে আশা, জামায়াতকে নিয়ন্ত্রণ করবে। জাতীয়তাবাদ ফিরিয়ে আনবে। জিয়া সাহেবের মতো দেশভক্তি ছড়াবে। চায়ের দোকানের লোক বলে, “তারেক এলে রাস্তায় পুলিশ থাকবে। ভয় থাকবে না। সন্ধ্যায় বাজারে যাওয়া যাবে।” গ্রামের মানুষ চায়, পৰিবার নিরাপদে থাকুক। শহরের লোক চায়, অফিস থেকে ফিরে বাসায় শান্তিতে টিভি দেখুক। এই শান্তির জন্য তারেকের দিকে তাকিয়ে আছে সবাই। সে প্রমাণ করবে যে, শাসন মানে ভয় নয়, নিরাপত্তা।

 

একটা বাজারের গল্প বলি। সেখানে এক বৃদ্ধ চায়ের দোকানে বসে বলছিলেন, “আগে রাতে দোকান খোলা থাকত। এখন ভয়ে বন্ধ করি। তারেক এলে আবার খুলব।” সেই বৃদ্ধর মতো লাখো মানুষের প্রত্যাশা। শান্তি চায়। স্থিতিশীলতা চায়।

 

অর্থনীতি: চাকরি, দাম আর স্বপ্ন

দ্বিতীয় বড় প্রত্যাশা অর্থনীতি নিয়ে। দেশের জিডিপি বেড়েছে। রেমিট্যান্স আসছে। গার্মেন্টস চলছে। কিন্তু দাম বেড়েছে। চাল ঘি দামি। বেকারত্ব বেড়েছে। কলেজ থেকে বেরোনো ছেলেপুলে চাকরি খুঁজছে। সরকারি চাকরির লাইন লম্বা। প্রাইভেটে বেতন কম। তারেকের ৩২ দফা রিফর্মে দুর্নীতি বন্ধের কথা আছে। ব্যাংকিং সেক্টর ঠিক করা। রপ্তানি বাড়ানো। বিদেশি বিনিয়োগ আনা।

 

লন্ডন থেকে অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে। ভারত-চীনের মাঝে ভারসাম্য রাখবে। মানুষ বলে, “চাকরি মিলুক। বাজারে চাল ঘি কম দামে পাওয়া যাক। ছেলে বিদেশ যাবে না, দেশেই কাজ করুক।” তারেক এলে মধ্যবিত্ত বাড়বে। স্টার্টআপ হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ সত্যি হবে। গ্রামে ফ্যাক্টরি হবে। শহরে আইটি পার্ক। যুবকরা স্বপ্ন দেখবে।

 

একটা গল্প বলি। ঢাকার একটা ফ্ল্যাটে থাকে রাহাত। কলেজ পাস করেছে। চাকরি নেই। প্রতিদিন সিভি দেয়। তার বাবা বলে, “তারেক এলে চাকরি মিলবে।” রাহাত বলে, “হ্যাঁ বাবা। বিশ্বাস করি।” এই রাহাতের মতো লাখো যুবকের প্রত্যাশা তারেকের কাছে। অর্থনীতি ঠিক করা। সাধারণ মানুষের জীবন সহজ করা।

 

সংস্কারের স্বপ্ন: নিরপেক্ষতা আর স্বচ্ছতা

তৃতীয় প্রত্যাশা সংস্কার। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন হবে। জজি নিরপেক্ষ হবে। পুলিশ রিফর্ম হবে। জুলাই চার্টার মানবে। কিন্তু প্রপোর্শনাল রিপ্রেজেন্টেশন নয়। এফটিপিটি চায় সবাই। দুর্নীতি আদালত গড়বে। ভোটার তালিকা ঠিক হবে। জালিয়াতি বন্ধ হবে। ব্যবসায়ীরা খুশি হবে। কারণ দুর্নীতি কমলে ব্যবসা বাড়বে।

 

মানুষ চায়, আদালতে জয় পাওয়া যাবে। পুলিশ ভয় দেখাবে না। নির্বাচনে ভোট গোনা হবে ঠিকঠাক। তারেক প্রমাণ করবে স্বচ্ছতা আনতে পারে। একটা গ্রামের গল্প। সেখানে একজন কৃষক বলে, “আমার জমি নিয়ে ঝগড়া। আদালতে গেলাম। কিন্তু টাকা লাগে। তারেক এলে টাকা লাগবে না।” এই কৃষকের মতো সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। সংস্কার চায়। ন্যায় চায়।

 

নারী, যুবক আর পরিবারের প্রত্যাশা

চতুর্থ, নারী আর যুবকের প্রত্যাশা। খালেদা জিয়ার ছেলে। নারীদের ভোট আছে অর্ধেক। নারী কোটা রাখবে। কিন্তু মেরিট বাড়াবে। নিরাপত্তা দেবে। রাতে রাস্তা চলা নিরাপদ হবে। যুবকরা চায় স্কিল ডেভেলপমেন্ট। টেকনিক্যাল এডুকেশন। আইটি কোর্স। তারেকের ভিশন ২০৩০ মধ্যবিত্ত বাড়াবে।

 

মানুষ বলে, “ছেলেমেয়েরা স্বপ্ন দেখুক। মেয়েরা পড়ুক। চাকরি করুক।” একটা মায়ের গল্প। তার মেয়ে স্কুল শিক্ষক। বাড়িতে ফিরতে ভয়। বলে, “তারেক এলে নিরাপদে ফিরব।” এই মায়ের প্রত্যাশা সব নারীর। নিরাপত্তা চায়। সম্মান চায়।

 

রোহিঙ্গা, ভারত আর বৈশ্বিক সম্পর্ক

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানুষ চায় বুঝদারি। হিউম্যানিটারিয়ান সাহায্য দিতে হবে। কিন্তু রিপ্যাট্রিয়েশন করতে হবে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। ভারতের সঙ্গে কথা বলবে। তিস্তা পানি, বর্ডার কিলিং নিয়ে কথা বলবে। কিন্তু অবমাননা সহ্য করবে না। চীন, আমেরিকা, ইউরোপের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখবে। বাংলাদেশকে শক্তিশালী দেশ হিসেবে দেখাবে।

 

একটা ব্যবসায়ীর গল্প। তিনি রপ্তানি করেন। বলে, “ভারতের সঙ্গে ঝগড়া হলে আমার ব্যবসা নষ্ট। তারেক এলে ভারসাম্য রাখবে।” এই ব্যবসায়ীর মতো সবাই চায় বৈশ্বিক সম্পর্ক ঠিক থাকুক।

 

নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ আর ভবিষ্যৎ

নির্বাচন ফেব্রুয়ারি ১২। বিএনপি জামায়াত জোট। এনসিপি আলাদা। জাতীয় পার্টি ছোট। পুলিশ নিরপেক্ষ হবে কি? ইউনুস সাহেব রিফর্ম করছেন। মানুষ চায় ফ্রি ফেয়ার নির্বাচন। তারেকের চ্যালেঞ্জ বড়। অতীত মামলা ক্লিয়ার করতে হবে। জামায়াত কন্ট্রোল করতে হবে। যুবকদের আকর্ষণ করতে হবে। নতুন লিডার তৈরি করতে হবে।

 

মির্জা ফখরুল ভালো কাজ করছেন। কিন্তু মানুষ তারেকের মুখ দেখতে চায়। র‍্যালিতে যেতে চায়। তার কথা শুনতে চায়। একটা ছেলের গল্প। সে বিএনপির সৈনিক। বলে, “তারেক ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা। তিনি এলে জয় হবে।” এই ছেলের মতো লাখো সমর্থক অপেক্ষায়।

 

গল্পের শেষ আর বাস্তবতা

এক গল্প মনে পড়ে। গ্রামের ছেলে লন্ডন গিয়েছিল। অনেক বছর পর ফিরেছে। গ্রামের লোক বলে, “তুই লিডার। চাকরি দে। রাস্তা বানা।” ছেলে বলে, “চেষ্টা করব। সময় লাগবে।” তারেকও তাই। প্রত্যাশা বড়। কিন্তু সময় লাগবে। নির্বাচন জিততে হবে। তারপর কাজ শুরু। ভুল হলে সমর্থক হতাশ হবে। সঠিক করলে দেশ বদলে যাবে।

 

চায়ের দোকানে লোক বলে, “তারেক এলে ভালো দিন আসবে। চাকরি মিলবে। শান্তি থাকবে।” আমি চুপ করে শুনি। মনে মনে ভাবি, তারেক রহমানের কাঁধে লাখো মানুষের স্বপ্ন। সে পারবে কি? সময় বলবে। কিন্তু আশা আছে। বাংলাদেশের মানুষ আশা করে। সেই আশাই দেশ চালায়।

 

সমকালীন বাংলাদেশে অর্থনীতি চলছে। কিন্তু দাম বেড়েছে। চাকরি কম। যুবকরা চায় পরিবর্তন। তারেকের কাছে আশা। কিন্তু প্রমাণ করতে হবে। নির্বাচন জিতলে দেশ বদলাবে। না জিতলে অপোজিশন হবে। তবু লড়াই চলবে। মানুষ অপেক্ষায়। চায়ের দোকান থেকে উঠে রাস্তায় হাঁটি। সূর্য ডুবছে। মনে হয়, কাল নতুন দিন। তারেকের দিন। বাংলাদেশের দিন।

 

শিক্ষা, স্বাস্থ্য আর পরিবেশের প্রত্যাশা

শিক্ষা নিয়ে আলাদা প্রত্যাশা আছে। স্কুল কলেজে ছাত্ররা আন্দোলন করেছে। কোটা নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। তারেকের সময় বিএনপি কোটা কমিয়েছিল। এখন ফিরিয়ে আনতে হবে সেই নীতি। টেকনিক্যাল এডুকেশন বাড়াতে হবে। ইটিআই, পলিটেকনিক। যুবকরা চায় স্কিল শিখে চাকরি। ইউনিভার্সিটিতে গবেষণা হোক। তারেকের লন্ডন অভিজ্ঞতা সাহায্য করবে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মডেল আনবে।

 

স্বাস্থ্য নিয়েও প্রত্যাশা। হাসপাতালে ডাক্তার নেই। ওষুধ দামি। গ্রামে হেলথ সেন্টার নেই। তারেকের প্ল্যানে ইউনিভার্সাল হেলথ কভার। সবাই ডাক্তার দেখাতে পারবে। করোনার সময় দেখেছি সরকার কী করল। এবার ভালো করতে হবে। মানুষ বলে, “বাচ্চা অসুস্থ হলে টাকা না থাকলেও চিকিৎসা হোক।”

 

পরিবেশ নিয়েও কথা আছে। নদী নালা ভরাট। বন কমছে। প্লাস্টিকের সমস্যা। তারেক এলে নদী রক্ষা করবে। গাছ লাগাবে। বন্যা প্রতিরোধ করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়বে। মানুষ চায়, বর্ষায় বাড়ি না ভাসুক।

 

গ্রাম আর শহরের আলাদা স্বপ্ন

গ্রামের মানুষের প্রত্যাশা আলাদা। কৃষক চায় সারের দাম কম। বীজ ভালো। সেচের জল। তারেক এলে কৃষি লোন দেবে। কোল্ড স্টোরেজ বানাবে। ফসলের দাম পাবে। শহরের লোক চায় ট্রাফিক জ্যাম কম। বাস ভালো। মেট্রোরেল আরো বাড়ুক।

 

এক কৃষকের গল্প। তিনি বলেন, “আমার ধান বিক্রি হয় না। দালাল খায়। তারেক এলে সরাসরি বাজারে যাব।” শহরের এক অফিস কর্মীর গল্প। “ট্রাফিকে আটকে থাকি। তারেক এলে রাস্তা বানাবে।” এই দুই গল্পের মধ্যে বাংলাদেশ। তারেক দুই দিকেই খেয়াল করবে।

 

যুব সমাজ আর ডিজিটাল ভবিষ্যৎ

যুবকরা চায় ডিজিটাল বাংলাদেশ। ফ্রিল্যান্সিং। স্টার্টআপ। আইটি পার্ক। তারেক এলে ৫জি সব জায়গায়। ই-গভর্নমেন্ট। অনলাইনে সার্টিফিকেট। যুবক বলে, “বিদেশ যাব না। দেশে কাজ করব।” একটা কলেজ ছেলের গল্প। সে কোডিং শিখছে। বলে, “তারেক এলে আমার অ্যাপ বানানোর সুযোগ হবে।” এই যুবকদের স্বপ্ন তারেক পূরণ করবে।

 

নির্বাচনের পর কী?

নির্বাচন জিতলে তারেকের দায়িত্ব বড়। প্রথম ১০০ দিনে কী করবে? দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান। চাকরির ঘোষণা। দাম কমানো। না জিতলে অপোজিশন। তবু লড়াই। মানুষ বলে, “জিতুক বা না জিতুক, দেশের ভালো চাই।” চায়ের দোকানে লোক বলে, “তারেক এলে ভালো দিন আসবে। না এলে অন্য কেউ আনুক।”

 

তারেক রহমানের কাঁধে লাখো স্বপ্ন। সে পারলে দেশ বদলাবে। না পারলে হতাশা। কিন্তু আশা আছে। বাংলাদেশের মানুষ আশায় চলে। চায়ের দোকান থেকে উঠে রাস্তায় হাঁটি। সূর্য ডুবছে। মনে হয়, কাল নতুন দিন। তারেকের দিন। আমাদের দিন।

 

লেখক: কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Link copied!