• ঢাকা
  • শনিবার, ২০ জুলাই, ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১, ১৩ মুহররম ১৪৪৫

খাদ্যাভ্যাস যেভাবে তারুণ্য ধরে রাখে


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৪, ০৬:৩১ পিএম
খাদ্যাভ্যাস যেভাবে তারুণ্য ধরে রাখে
খাদ্যাভ্যাস যেভাবে তারুণ্য ধরে রাখে । ছবি: সংগৃহীত

বার্ধক্য একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যা থামানো যায় না। তবে অনেক সময় দেখা যায়, অল্প বয়সেই চেহারায় বয়সের ছাপ চলে আসে। অতিরিক্ত দূষণ ও বর্তমান সময়ের খাদ্যাভ্যাস আমাদের বয়সের তুলনায় ত্বক বুড়িয়ে তুলতে বেশি দায়ী। আবার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের উজ্জ্বলতাও কমতে থাকে। বয়সের ছাপগুলো ফুটে ওঠে ত্বকে। পুষ্টিবিদেরা মনে করেন খাদ্যাভ্যাস ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর খাদ্যতালিকায় সঠিক খাবারগুলো রাখতে পারলে ত্বকের পড়বে ইতিবাচক প্রভাব। আর যে খাবারগুলো তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে সে খাবারগুলো বাংলাদেশে সহজেই পাওয়া যায়।

বেদানা, ডালিম
বেদানায় রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও হিমোগ্লোবিন তৈরির উপাদান। বেদানায় থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের নমনীয়তা বজায় রেখে ত্বককে টান টান রাখতে সহায়তা করে। বেদানা ইউরোলিথিন এ–তে ভরপুর। আর উপাদানটি বার্ধক্যের গতি কমিয়ে দেওয়ার জন্য খুবই উপযোগী।

বাদাম
বাদাম, আখরোট এবং পেস্তার মতো বাদামগুলো স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস। এছাড়াও এগুলোতে রয়েছে ভিটামিন-ই, যা ত্বককে সূর্যের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে এবং বার্ধক্যজনিত লক্ষণগুলো হ্রাস করতে সহায়তা করে।

ডার্ক চকলেট
যারা চকলেট ভালোবাসেন তাদের জন্য ভালো খবর হলো ডার্ক চকলেট বয়স ধরে রাখতে সহায়তা করে। ডার্ক চকলেটে আছে আঁশ, লোহা, ম্যাগনেশিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক ও সেলেনিয়াম। দিনে অল্প পরিমাণ ডার্ক চকলেট খেলেও ৫০ ভাগ পর্যন্ত হৃদ্‌রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে। ডায়াবেটিস আর ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে। আর কমে বিষণ্নতা। মন ভালো রাখতেও তাই খেতে পারেন এক টুকরা ডার্ক চকলেট। স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।

পাকা পেঁপে 
পাকা পেঁপে শরীরের জন্য খুবই উপকারী। পেপেঁতে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে। ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাসের মতো লবণও রয়েছে এতে। বি কমপ্লেক্স ভিটামিনও এই ফলে কম নয়। ফলে এটি সব মিলিয়ে শরীরের জন্য খুব ভালো।

টমেটো
টমেটোতে থাকা লাইকোপেন নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বককে সজীব ও সতেজ করে তোলে এবং অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ব্রণ কমায়।

পালংশাক
অ্যান্টি–অক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ পালংশাকের মানসিক চাপ কমাতে, চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ও ক্যানসার প্রতিরোধেও কাজ করে।

রসুন
রসুন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি যৌগগুলোর একটি সমৃদ্ধ উত্স, যা বার্ধক্যজনিত লক্ষণগুলো হ্রাস করতে সহায়তা করে। এছাড়াও এতে রয়েছে অ্যালিসিনের মতো একটি যৌগ যা দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সহায়তা করে।

মিষ্টি আলু
বিটা ক্যারোটিন, যেটা ভিটামিন এ–তে রূপান্তরিত হয়, সেটার সবচেয়ে ভালো উৎসগুলোর একটি মিষ্টি আলু। বয়স বাড়তে থাকলে চোখ, ত্বক ও মস্তিষ্কের অনেক সমস্যা বাড়ে, যা কমাতে সাহায্য করে মিষ্টি আলু।

অ্যাভোকাডো
অ্যাভোকাডোর মধ্যে রয়েছে লিনোলেনিক অ্যাসিড এবং আলফা লিনোলেনিক অ্যাসিড যা, ত্বকের কোষকে সুন্দর এবং তরতাজা রাখতে সাহায্য করে। বলিরেখা দূর করে।

ব্রকলি
বিদেশী সবজি ব্রকলি ভিটামিন সি, কে, বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ফাইবার, ফোলেট, ক্যালসিয়ামে পরিপূর্ণ। ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ধরে রাখতে এই সবজি কাজ করে। এ ছাড়া ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতেও কার্যকরী ব্রকলি।

জাম্বুরা
জাম্বুরার ম্যাগনেশিয়াম উত্তেজনা কমিয়ে শান্ত থাকতে সাহায্য করে। পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। আঁশ খাবার হজমে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ক্ষতিকর ফ্যাট আর কোলেস্টেরল পোড়ায়।

টক দই
টক দই মেদ ও কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। দইয়ে প্রচুর প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম আছে যা শরীরের গঠন ভালো রাখে এবং হাড়ের ক্ষয় রোধ করে।

গ্রিন টি
গ্রিন টিতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট। শরীর চাঙা রাখে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, ক্যানসার প্রতিরোধ করে, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এ ছাড়া গ্রিন টিতে ক্যাটেচিন নামের একটি উপাদান থাকে, যা ভিটামিন ই এবং সি–এর থেকেও বেশি শক্তিশালী। গ্রিন টি স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটায় এবং তথ্য সংরক্ষণে সাহায্য করে।

Link copied!