নারী টি২০ বিশ্বকাপ বাছাই টুর্নামেন্টে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আগামী জুনে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপে ভালো করার স্বপ্ন দেখেন দলের তারকা নিগার সুলতানা জ্যোতি। দেখে নেয়া যাক তার বিস্তারিত সাক্ষাৎকার।
: টি২০ বিশ্বকাপের বাছাই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়াই কি লক্ষ্য ছিল?
- আমাদের বিশ্বাস ছিল ভালো করব। ধারাবাহিকতা ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত খেলতে পারলে অপরাজেয় থাকতে পারব। দল হিসেবে ভালো খেলে সেটা করতে পেরেছি। আমরা নেপালে আসার আগে বিশ্বাস করেছি শিরোপা জয়ের জন্যই খেলব। ওই লক্ষ্যে পৌঁছাতে যে ধরনের মানসিকতা দরকার, আমরা ওইরকমই ছিলাম। এবার দেখবেন খুব ভালো হয়েছে, চোখে লাগার মতো পারফরম্যান্স করতে পেরেছি টি২০ ম্যাচগুলোতে। এই সংস্করণে ব্যাটাররা খুব বেশি ধারাবাহিকতা দেখাতে পারত না। এই প্রথম প্রতিটি ম্যাচে ১৪০ প্লাস রান করেছি। আমার মনে হয় এটা বড় একটা অর্জন।
: ওয়ানডে বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের কোনো প্রভাব ছিল টি২০ টুর্নামেন্টে?
- শেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে দলের একটা আত্মবিশ্বাস এসেছে—আমরা নিজেদের জায়গা থেকে সেরাটা খেলতে পারলে, ভুল কম হলে বিশ্বের যে কোনো দলকে হারাতে পারব। ওই বিশ্বাস টি২০ বাছাই টুর্নামেন্টে ভালো খেলতে সহায়তা করেছে। আমরা অনেক বছর ধরে এক ধরনের ক্রিকেট খেলছিলাম—১২০ থেকে ১৩০ রান করেছি। ওই রান আন্তর্জাতিক ভালো দলগুলো অনায়াসে তাড়া করে ফেলত। তাই ১৫০, ১৬০ রান করার অভ্যাস খুব দরকার ছিল। যদিও এ রকম ব্যাটিং করা কঠিন ছিল। এ ক্ষেত্রে কোচিং স্টাফ দারুণ সহযোগিতা করেছে।
: বিশ্বকাপ বাছাই টুর্নামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেমন ছিল?
- একটি দল যখন ধারাবাহিক ভালো করে, ধারাবাহিক রান করে, তখন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা সহজ হয়। প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ দুটোই ছিল। আমরা সেগুলো মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি।
: বোলিং কেমন ছিল?
- উইকেট ভালো থাকায় বোলাররা কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়েন। দুপুরের রোদেও ম্যাচ খেলতে হয়েছে। এ রকম ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে বোলিং ইকোনমি ভালো রাখা জরুরি ছিল। প্রথম তিনটি ম্যাচে সমস্যা হলেও বোলাররা দ্রুত মানিয়ে নিয়েছে।
: এবারের বিশ্বকাপ কেমন হতে পারে?
- আমরা আগে যে টি২০ বিশ্বকাপগুলো খেলেছি, সেখানে ব্যাটিংয়ের ফিনিশিং রোলে কেউ ছিল না। বিশেষ করে পাওয়ার হিটার ছিল না। আমরা একই ধরনের ক্রিকেট খেলতাম—টপঅর্ডার থেকে লোয়ার অর্ডারে। ইমপ্যাক্ট ইনিংস খেলার মতো ব্যাটার থাকলেও নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। সোভানা, স্বর্ণা ওই জায়গাটা পূরণ করেছে। ওরা দেড়শ স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করছে। আশা করব, তারা সামনের দিনগুলোতেও ধারাবাহিক থেকে বিশ্বকাপে সফল হবে।
: বিশ্বকাপের আগে চার মাস পাচ্ছেন—এই সময়ে কয়টি সিরিজ খেলতে চান?
- আমরা কোয়ালিফাই করার পর ম্যানেজমেন্টকে বলেছি—প্রতিবারের মতো শুধু টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করার জন্য যেতে চাই না। এবার কিছু একটা করতে চাই। আগামীতে যেন বাছাই টুর্নামেন্ট খেলতে না হয়। ভালো প্রস্তুতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। আন্তর্জাতিক সিরিজ হোক, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ হোক বা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টি২০ টুর্নামেন্ট খেলতে চাই। আমরা ম্যানেজমেন্টের কাছে দাবিগুলো রেখেছি—এবার কোনোভাবেই বলার সুযোগ থাকবে না—সময় নেই, সব দল বুক হয়ে গেছে। এখনও যথেষ্ট সময় আছে—অন্তত দুটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে পারলে ভালো হবে।
: ইংল্যান্ডে আপনাদের খেলার অভিজ্ঞতা নেই। বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ডে কন্ডিশনিং ক্যাম্প চাইবেন বিসিবির কাছে?
- আমাদের চিন্তাভাবনা এ রকমই। ম্যানেজমেন্টের চিন্তাভাবনাও এ রকম। ইংল্যান্ডে কোনো কিছু আয়োজন করা যায় কিনা। কারণ এই দলের কেউই কখনও ইংল্যান্ডে খেলেনি। ওখানে একটি কন্ডিশনিং ক্যাম্প বা সিরিজ খেলতে পারলে কাজে দেবে। বিশ্বকাপ ম্যাচে নামার আগে কন্ডিশন বুঝে ও মানিয়ে নিয়ে খেলতে পারব।








































