ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ ফ্যাব্রিক ও গার্মেন্টস সোর্সিং প্রদর্শনী টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস স্প্রিং এডিশন ২০২৬-এ অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর প্রথম দিন সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন’।
আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফ্রান্সের প্যারিসের লো-বুর্জে এলাকায় অবস্থিত পার্ক দে এক্সপোজিশনে অনুষ্ঠিত এ প্রদর্শনীতে বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশের দেড় হাজারের বেশি ফ্যাব্রিক ও পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। বৈশ্বিক ক্রেতা, ব্র্যান্ড ও সোর্সিং হাউজগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ রপ্তানিমুখী পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের আন্তর্জাতিক বাজারে উপস্থিতির একটি অংশ।
দূতাবাসের উদ্যোগে উদ্বোধন
প্রদর্শনীর প্রথম দিন সকাল ১১টায় হল-৩-এ অবস্থিত বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নটি উদ্বোধন করেন ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের মাননীয় রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি খন্দকার এম. তালহা। এ সময় প্যারিসস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ ছাড়াও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে খন্দকার এম. তালহা বলেন, “বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে দূতাবাস সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ এ ধারাবাহিক উদ্যোগেরই অংশ।”
১৮টি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ
এবারের টেক্সওয়ার্ল্ড প্যারিসে ইপিবি’র সমন্বয়ে ১৮টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এছাড়া নিজস্ব উদ্যোগে আরও কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান সরাসরি প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল মিনিস্টার মিজানুর রহমান জানান, নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করতে সরকার স্টল বরাদ্দে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ফি ভর্তুকি দিচ্ছে। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশে সহায়তা করতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত স্টল ফি ভর্তুকির ব্যবস্থা রয়েছে।
উদ্যোক্তাদের উদ্বেগ
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন। সিরাজ অ্যাপারেলস (প্রা.) লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “শিগগিরই ভারতের তৈরি পোশাক শিল্প ইউরোপীয় বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে পারে—এমন আলোচনা চলছে। এ ধরনের কোনো সুবিধা কার্যকর হলে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্প প্রতিযোগিতায় চাপে পড়তে পারে।” এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীকে ক্রেতা ও উৎপাদকদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া চীন, তুরস্ক ও নেপালের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার প্রথম দিনে ক্রেতাদের উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। তবে প্রদর্শনীর বাকি দুই দিনে বড় ক্রেতাদের সাড়া পাওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদী।








































