গত দেড় বছরে দেশের গণমাধ্যম খাতে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই সময়ে অন্তত ১৮৯ জন সাংবাদিক চাকরিচ্যুত হয়েছেন এবং ২৯টি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ে ঘটেছে রদবদল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গতকাল সোমবার রাজধানীতে সংস্থাটির কনফারেন্স হলে এসব তথ্য জানিয়েছে।
‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর’ প্রতিবেদন
‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম খাত নিয়ে টিআইবি এসব তথ্য তুলে ধরে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গণমাধ্যমের ওপর সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব তৈরির সুস্পষ্ট চেষ্টা না থাকলেও ‘মব’ সহিংসতার মাধ্যমে গণমাধ্যম কার্যালয়গুলোতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সাংবাদিক, লেখক ও মানবাধিকারকর্মীদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে।
টিআইবির তথ্যমতে, দায়িত্ব পালনকালে হামলায় ছয়জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। আগস্ট ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ সময়কালে গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে ৪৯৭টি হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় এক হাজার ১০৪ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী হয়রানির শিকার হন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসংক্রান্ত হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় ২০৪ জন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় কমপক্ষে ৩০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং অনেককে জামিন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে অপতথ্যের প্রবণতা
টিআইবি জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতিপক্ষ দল ও সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের প্রবণতা বেড়েছে। বিরুদ্ধ মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ‘ট্যাগ’ ব্যবহার এবং গণমাধ্যমের ফটোকার্ড ও লোগো ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানোর ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়লেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
প্রেস ফ্রিডম সূচকে উন্নতি কিন্তু...
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার (আরএসএফ)-এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে প্রেস ফ্রিডম সূচকে বাংলাদেশ ১৬ ধাপ উন্নতি করলেও গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি বলে টিআইবি মন্তব্য করেছে। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন স্বাধীন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার অন্তরায় হিসেবে ১৩টি আইনের বিভিন্ন ধারা চিহ্নিত করলেও সেগুলো সংস্কারের জন্য যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কমিশন প্রণীত সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের খসড়া কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে।








































