• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২, ৩ ভাদ্র ১৪২৯

বন্ধ হয়ে গেল ৫৬ বছরের নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল!


আরিফ আহমেদ সিদ্দিকী, পাবনা
প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২২, ০৮:৪৬ পিএম
বন্ধ হয়ে গেল ৫৬ বছরের নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল!

লোকসানের কারণেই তৎকালীন সরকার পাবনার ঈশ্বরদীস্থ নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে বেশ কয়েকবার মিলটি চালুর উদ্যোগ নিলেও সেটি আলোর মুখ দেখেনি।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তার কাজে ব্যবহারের জন্য এবারে মিলের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মিলের জমি হস্তান্তর করা হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের কাছে।

দেশের বৃহৎ এবং ঐতিহ্যবহনকারী নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল নামে উত্তরবঙ্গের অন্যতম ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ৫৬ বছরের পথ চলা বন্ধ হলো। জমি হস্তান্তরের পরপরই এই অফিসে কর্মরত দুই কর্মকর্তা ছেড়ে চলে গেছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পি এম ইমরুল কায়েস বলেন, “ইতোমধ্যে মিলের জায়গা হস্তান্তর করা হয়েছে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) কর্মকর্তারা মিল এলাকা ছেড়ে গেছেন।”

নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে থাকা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “জমি হস্তান্তরের পর আর এই মিলে আমাদের কাজ না থাকায় আমরা বিসিআইসির কর্মকর্তারা প্রধান কার্যালয়ে যোগদান করেছি।”

তথ্যমতে, ১৯৬৬ সালে পাকশি হার্ডিঞ্জ ব্রিজের উত্তর পাশে ১৩৩ একর জায়গার ওপর নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল প্রতিষ্ঠা করা হয়। একসময় এটি ছিল উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান। স্বাধীনতার পর এতে ১৯৭২ সালে কাগজ উৎপাদন শুরু হয়। পরে ১৯৭৫ সালে পুরোদমে মিলের উৎপাদন শুরু হয়। এক সময় এই মিলে হাজারের বেশি শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করতেন।

লোকসানের কারণে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকার ২০০২ সালে মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা আর চালু করা সম্ভব হয়নি। মিলটি বন্ধ করা হলেও দাপ্তরিক কাজের জন্য এখানে কয়েকজন কর্মকর্তা নিয়োজিত ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুল শিক্ষক আমিরুল ইসলাম বলেন, “পাকশি পেপার মিল ছিল এই অঞ্চলের উন্নতির প্রথম ধাপ। মিলটি এ অঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যখন ভারী ভারী শিল্প কলকারখানা সৃষ্টি হচ্ছে। সে সময়ে ঐতিহ্যবহনকারী এই কাগজ কলটি চিরতরে নিভিয়ে নিয়ে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।”