গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁক দেওয়া হতো বিমান এমডির গৃহকর্মী শিশুটির শরীরে


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৯:০২ এএম
গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁক দেওয়া হতো বিমান এমডির গৃহকর্মী শিশুটির শরীরে

নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমানের বাসায় কর্মরত এক শিশু গৃহকর্মী। রান্নার কাজে ব্যবহৃত গরম খুন্তি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৩টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন— বীথী (৩৭), শফিকুর রহমান (৬৬), সুফিয়া (৫৫) ও রুপালি (৩৫)। ডিসি তালেবুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা গোলাম মোস্তফা একজন হোটেল কর্মচারী। আর্থিক সংকটের কারণে তিনি তার একমাত্র ১১ বছর বয়সী কন্যাকে ২০২৫ সালের জুন মাসে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় একটি বাসায় শিশু দেখাশোনার কাজে দেন। ওই বাসার মালিক ছিলেন বীথী ও তার স্বামী শফিকুর রহমান। তারা শিশুটির ভরণপোষণ ও ভবিষ্যতে বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন।

শুরুর দিকে গোলাম মোস্তফা নিয়মিত মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে পারলেও ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হতো না। সর্বশেষ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে বীথী ফোন করে শিশুটি অসুস্থ বলে দ্রুত নিয়ে যেতে বলেন। সন্ধ্যায় শিশুটিকে বাবার কাছে হস্তান্তরের সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ও পোড়া ক্ষত দেখতে পান তিনি। সে সময় শিশুটি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতেও পারছিল না। আঘাতের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তরা কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। পরে শিশুটিকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি জানায়, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বরের পর থেকে বীথী, শফিকুর রহমান এবং আরও দুই গৃহকর্মী তাকে নিয়মিত মারধর করতেন। রান্নার কাজে ব্যবহৃত গরম খুন্তি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো।

এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে নির্যাতনের শিকার শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ডিসি তালেবুর রহমান আরও জানান, ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী, এনডিসির পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
 

Link copied!