র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নাম ও কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাহিনীটির নতুন নাম হবে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ)। এই সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় গৃহীত হয়।
সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের জানান, “ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন দিয়েছেন। র্যাবের নতুন নাম ও কার্যপরিধি সংকারের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।”
উপদেষ্টা আরও বলেন, এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য জনগণের কাছে বাহিনীর ভাবমূর্তি ইতিবাচক করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আধুনিক, পেশাদারী বাহিনী গঠন।
২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত র্যাব দ্রুত অপরাধ নির্মূলের জন্য পরিচিত হলেও মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও জোরপূর্বক গুমের অভিযোগে বিতর্কিত হয় । আন্তর্জাতিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বারবার র্যাবের বিরুদ্ধে প্রমাণসহ রিপোর্ট প্রকাশ করে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে কর্তৃত্ববাদী শাসনামলের সময় র্যাবের কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগের তীব্রতা বাড়ে। রাজনৈতিক বিরোধীদের গুম, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় বাহিনীটির নাম সরাসরি জড়িয়ে পড়ে।
এসআইএফ-এর পূর্ণরূপ ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ নামটি বাহিনীর কার্যপরিধি সংক্ষিপ্ত করে। নতুন কাঠামোর মূল লক্ষ্য হবে: আতঙ্কবাদ দমন ও সন্ত্রাস রোধ, নগর রক্ষণাবেক্ষণ ও দুর্যোগ মোকাবিলা, উচ্চপ্রযুক্তিগত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মানবাধিকার সংরক্ষণে সচেতনতা প্রভৃতি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, বাহিনীর নতুন গঠনের জন্য বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর সংস্কারে কাজ শুরু করেছে। পুলিশের কাঠামু ও কার্যপদ্ধতি সংস্কারের পাশাপাশি র্যাবের নাম ও কার্যক্রমে পরিবর্তন এর অংশ।
সরকারি পর্যায়ক্রমে এসআইএফ-এর কার্যক্রম শুরুর জন্য আইএনজি’র মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় চলছে বলে জানা গেছে। বাহিনীর নতুন লোগো, ইউনিফর্ম ও কমান্ড স্ট্রাকচারও পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হবে।


































