দ্য উইকে নাহিদ ইসলাম

জামায়াত জোট সরকার গঠন করলেও ধর্মরাষ্ট্র হবে না


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
জামায়াত জোট সরকার গঠন করলেও ধর্মরাষ্ট্র হবে না

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘জামায়াত জোট সরকার গঠন করলেও দেশ ধর্মরাষ্ট্রে পরিণত হবে না। গণতান্ত্রিক সরকার হবে এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়বে। নারী ও সংখ্যালঘুদের সব সমস্যা সমাধান করবে। এটি আমাদের অঙ্গীকার এবং এনসিপির অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শের অংশ।’ ভারতের সাপ্তাহিক ইংরেজি ম্যাগাজিন ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ‘দ্য উইক’-এর দিল্লির ব্যুরোপ্রধান নম্রতা বিজি আহুজা। এটি আগামী রোববার ছাপা ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম তাঁর দলের লক্ষ্য, আসন্ন নির্বাচন এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার পটভূমি ব্যাখ্যা করেন। তিনি স্পষ্ট করেন, বর্তমান সম্পর্কটি কেবল নির্বাচনী সমঝোতা—এটি কোনো আদর্শিক একীভূতকরণ নয়।

জামায়াতকে ঘিরে সমালোচনা এবং সংখ্যালঘুদের উদ্বেগের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, জোট এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি; নির্বাচনী সহযোগিতা এবং নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে, প্রয়োজনে বিষয়গুলো ইশতেহারে প্রতিফলিত হবে। তিনি জানান, বর্তমানে এনসিপি ও জামায়াতের আলাদা ইশতেহার রয়েছে। নাহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াত তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসে জানিয়েছে—তারা পুরোনো আদর্শের ভিত্তিতে সরকার গঠন করবে না; বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি এবং জাতীয় সরকারের কথা বলছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকারে আঘাত লাগলে এনসিপি এই সম্পর্ক ছিন্ন করতে দ্বিধা করবে না।

নাহিদ ইসলাম জানান, আসন্ন নির্বাচনে তাঁর দল জোটগতভাবে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নতুন দল হিসেবে সব আসনে জয় নিশ্চিত করা কঠিন হলেও সংসদে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরতে এই জোট প্রয়োজন ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং সংসদে জায়গা করে নিতে এই সমঝোতা জরুরি হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে এনসিপি এককভাবে নির্বাচনের কথা ভাবলেও ওসমান হাদি হত্যার পর সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়। নাহিদ ইসলামের দাবি, জুলাই অভ্যুত্থানের নেতাদের হত্যার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে; এসব ‘অপশক্তি’ মোকাবিলায় আদর্শিক একাকিত্বের চেয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়া বেশি জরুরি।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংস্কারের জন্য গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া একটি বড় সাফল্য। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানুষের সব প্রত্যাশা পূরণে সরকার পুরোপুরি সফল হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, পুরোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো দ্রুত সংগঠিত হয়ে সংস্কারের পথ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, তারা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চান, কিন্তু ভারতকে ‘পুরোনো নীতি’ বদলাতে হবে—সীমান্ত হত্যা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। তিনি জানান, তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম দাবি হবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা; ভারত তাঁকে ফেরত দিলে তবেই সুসম্পর্ক সম্ভব, অন্যথায় সম্পর্ক রক্ষা কঠিন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, অভিজ্ঞ দলগুলো অতীতে ভালো শাসন দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং মানুষ এখন তরুণ নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহী। সংসদে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারলে রাজপথের আন্দোলনকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রূপ দেওয়া সম্ভব বলেও তিনি সাক্ষাৎকারে মত প্রকাশ করেন।

Link copied!