দ্য উইকে সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াত প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
জামায়াত প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জামায়াত প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল—যা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মিল রেখে নিজেদের নীতিগুলো ক্রমাগত পরিমার্জন করেছে। আমরা সবসময়ই গণতান্ত্রিক ও জনমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাসী।’ ভারতের সাপ্তাহিক ইংরেজি ম্যাগাজিন ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাক্ষাৎকারটি আগামী রোববার ছাপা ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হবে। এতে জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।

‘দ্য উইক’-এর দিল্লির ব্যুরোপ্রধান নম্রতা বিজি আহুজার প্রশ্নে প্রথাগত নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে কাটানো বছরগুলো থেকে জামায়াত কী শিক্ষা নিয়েছে—এ বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে থাকলেও জামায়াত কখনও গণতান্ত্রিক কার্যক্রম থেকে সরে আসেনি। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে একই প্রতীকে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে জামায়াত শিখেছে—গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে সব গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য জরুরি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বছর শেষ পর্যন্ত দলকে আরও শক্তিশালী করেছে; সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত করা হয়েছে, দলের শৃঙ্খলা কঠোর করা হয়েছে, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ গভীর হয়েছে এবং সমসাময়িক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলাতে রাজনৈতিক কৌশল নতুন করে সাজানো হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান জানান, ২০১৩ সাল থেকে কার্যত নিষিদ্ধ অবস্থার মধ্যেও জামায়াত সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেনি। তাঁর দাবি, দেশের তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ দুর্নীতি ও অপশাসনের বিকল্প হিসেবে জামায়াতের সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক কাঠামোর প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তাদের ছাত্র সংগঠন সাফল্য দেখিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জামায়াত এখন কেবল আদর্শিক রাজনৈতিক দল হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; বরং কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের অংশীদার করে দেশ গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সাক্ষাৎকারে জামায়াতের আমির আরও বলেন, তারা নির্দিষ্ট কোনো সংকীর্ণ আদর্শে আবদ্ধ থাকতে চান না; বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনে বিশ্বাসী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে ১০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠন করেছে জামায়াত। তবে বিএনপির সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক জোট না থাকলেও জাতীয় স্বার্থে ‘গঠনমূলক সহযোগিতা’ এবং ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের বিষয়ে তারা ইতিবাচক। জোটবদ্ধ রাজনীতিতে জামায়াতের তিনটি মূলনীতি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন—জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং দেশপ্রেমিক রাজনীতি।

নারী ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মানবিক মর্যাদায় বিশ্বাসী। প্রমাণ হিসেবে তিনি হিন্দু প্রার্থী মনোনয়নের প্রসঙ্গ তোলেন। তবে আসন বণ্টন ও জোটগত সমীকরণের কারণে জামায়াতের পক্ষ থেকে নারী প্রার্থী দেওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জোটের অন্য নারী প্রার্থীদের জামায়াত সব ধরনের সমর্থন দিচ্ছে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের হয়ে নারী জনপ্রতিনিধি হওয়ার নজিরও রয়েছে।

অতীতের বিতর্ক প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত কোনো জামায়াত সদস্যের কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে তার জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।

Link copied!