আজ থেকে ভারতের কলকাতায় অবস্থান করার কথা ছিল লিটন দাস, মোস্তাফিজুর রহমানসহ বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের। সূচি অনুযায়ী আগামী সাত ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিশন। কিন্তু ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে সেই স্বপ্ন এখন অধরাই রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভারতের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করার পর বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায় এবং তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ড প্রতিস্থাপিত হয়। বিশ্বকাপের বিশ্বমঞ্চের বদলে তাই এবার হোম অব ক্রিকেট মিরপুরেই ঘরোয়া মাঠে সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে দেশের ক্রিকেটারদের।
বিশ্বকাপের আদলে দেশের সেরা ঊনচল্লিশ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে বিসিবি আয়োজন করেছে 'অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ'। আজ বুধবার সন্ধ্যা ছয়টায় ঢাকার শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন ধূমকেতু একাদশ ও আকবর আলীর দুরন্ত একাদশ। টুর্নামেন্টের তৃতীয় দলটি হলো নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে দুর্বার একাদশ। এই প্রতিযোগিতায় জাতীয় দলের পাশাপাশি বয়সভিত্তিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রাও জায়গা পেয়েছেন।
তবে এরমধ্যেও বিশ্বকাপ খেলতে না পারার আক্ষেপ পোড়াচ্ছে সিনিয়র ক্রিকেটারদের মনে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিনিয়র ক্রিকেটার জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ খেলা যেকোনো ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারে বিশেষ মাইলফলক এবং সেখানে অংশ নিতে না পারা মানসিকভাবে অত্যন্ত চাপের। তবে বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তারা এই ঘরোয়া টুর্নামেন্টেই সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনও অকপটে স্বীকার করেছেন যে এই হতাশা কাটিয়ে ওঠা ক্রিকেটারদের জন্য বেশ কঠিন বিষয়।
টুর্নামেন্টটি কেবল খেলার সুযোগই নয়, বরং ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতির দিকটিও বিবেচনায় নিয়েছে বিসিবি। প্রতিটি ম্যাচের জন্য একজন ক্রিকেটার পাবেন পঞ্চাশ হাজার টাকা। এছাড়া ম্যাচ জয় ও চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য রয়েছে বড় অঙ্কের পুরস্কার অর্থ। সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টের মোট পুরস্কার ও ম্যাচ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে দুই কোটি পঞ্চাশ লাখ টাকা। একজন ক্রিকেটারের জন্য টুর্নামেন্ট শেষে আয় দাঁড়াতে পারে প্রায় সাত লাখ টাকা পর্যন্ত।
গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে পাঁচ, ছয় ও সাত ফেব্রুয়ারি এবং ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে নয় ফেব্রুয়ারি। দর্শকদের জন্য প্রতিটি ম্যাচের আগে বিকেল চারটা থেকে থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে একশ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুবিধা—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র ও ইউনিফর্ম পরিধান করে এলে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা বিনা মূল্যে গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করার সুযোগ পাবে।




































