বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ৬ নতুন বই


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ৬ নতুন বই

বাংলা একাডেমি বছরজুড়ে সাহিত্য, গবেষণা ও সংস্কৃতিভিত্তিক নতুন প্রকাশনা বাজারে আনলেও সম্প্রতি তাদের প্রকাশিত ছয়টি নতুন বই পাঠকমহলে আলাদা করে নজর কেড়েছে। গবেষণা, অনুবাদ, ভাষাবিজ্ঞান থেকে শুরু করে উপন্যাস—বিভিন্ন ধারার এই বইগুলোতে সমকালীন পাঠকের আগ্রহের বিষয়গুলো যেমন আছে, তেমনি আছে ইতিহাস-ঐতিহ্য ও চিন্তাজগতের গুরুত্বপূর্ণ পাঠও।

এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য একটি বই মাহমুদ শাহ কোরেশীর ‘প্যারিসে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ : প্রসঙ্গ-অনুষঙ্গ’। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ জীবনের দীর্ঘ সময় ফ্রান্সের প্যারিসে কাটিয়েছিলেন—বইটিতে তার সেই প্রবাসজীবন, প্যারিসের সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল এবং ওয়ালীউল্লাহ্‌র লেখায় ফরাসি জীবন ও দর্শনের প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। লেখক নিজে প্যারিসে অবস্থানকালে ওয়ালীউল্লাহ্‌র সান্নিধ্য পেয়েছিলেন—সে কারণে স্মৃতি ও গবেষণার মিশেলে গ্রন্থটির বর্ণনা আরও প্রত্যক্ষ ও জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

বাংলার ইতিহাসভিত্তিক বড় পরিসরের কাজ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে ‘বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস (২য় খণ্ড)’, যার লেখক ডক্টর এম. এ. রহিম; অনুবাদ করেছেন মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ও ফজলে রাব্বি। বইটিতে মুসলিম শাসনামলে বাংলার সামাজিক জীবন, ধর্মীয় আচরণ, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন ধর্ম-সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সম্পর্ক—গবেষণার আলোকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিশেষভাবে ১২০৩ থেকে ১৫৭৬ সময়পর্বের সামাজিক কাঠামো, সাংস্কৃতিক চর্চা ও জীবনধারার একটি প্রামাণ্য চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা আছে, যা ইতিহাস-সমাজ-সংস্কৃতি বিষয়ে আগ্রহী পাঠক ও গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।

ভাষা ও নৃগোষ্ঠী গবেষণার ধারায় এসেছে মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের ‘পাত্র ভাষা ও সংস্কৃতি’। সিলেট অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পাত্র সম্প্রদায়ের ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের একটি প্রামাণ্য লোকজগ্রন্থ হিসেবে বইটিতে তাদের নিজস্ব ভাষার ব্যাকরণ, শব্দভাণ্ডার এবং বাক্যগঠন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লোকজ ভাষাবৈচিত্র্য, জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং প্রান্তিক সম্প্রদায়ের জীবনচিত্র জানার আগ্রহ যাদের আছে—তাদের জন্য বইটি একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।

সাহিত্য-তত্ত্ব ও সমকালীন কবিতাচর্চার পাঠকদের জন্য প্রকাশিত হয়েছে হিমেল বরকতের ‘উত্তর-ঔপনিবেশিক চৈতন্য’। ঔপনিবেশিক অভিজ্ঞতার উত্তর-পর্বে বাংলাদেশের কবিতায় যে বোধ, ভাষা ও সাংস্কৃতিক চেতনা বিকশিত হয়েছে—গ্রন্থটিতে সেই ধারার তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও পাঠ উপস্থাপন করা হয়েছে। বইটিতে কবিতাকে কেবল নান্দনিক রচনা নয়, ইতিহাস-সংস্কৃতি-ক্ষমতার সম্পর্কের ভেতর দাঁড়ানো এক ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক অনুষঙ্গ হিসেবেও দেখা হয়েছে।

কারিগরি ও ব্যবহারিক ভাষাচর্চার প্রয়োজন মাথায় রেখে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করেছে ‘ব্যবহারিক পরিভাষা’, সংকলন ও সম্পাদনায় সুব্রত বড়ুয়া। দাপ্তরিক কাজ, শিক্ষা, বিজ্ঞান, শিল্প এবং দৈনন্দিন ব্যবহারে প্রচলিত বহু ইংরেজি শব্দের প্রমিত বাংলা প্রতিশব্দ এখানে একত্র করা হয়েছে—ফলে অনুবাদক, শিক্ষার্থী, লেখক এবং সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে কর্মরতদের জন্য বইটি সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অনুবাদ সাহিত্যের তালিকায় যুক্ত হয়েছে ধর্মবীর ভারতীর উপন্যাস ‘সূর্যের সপ্তম ঘোড়া’, অনুবাদ করেছেন সফিকুন্নবী সামাদী। হিন্দি থেকে অনূদিত এই উপন্যাসে আধুনিকতার প্রভাব, সমাজ-সত্য, মানবধর্ম ও মনস্তত্ত্বের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ উঠে এসেছে, আর বর্ণনাভঙ্গিতে পঞ্চতন্ত্রের ঢং অনুসরণ করে ভিন্নধারার একটি ন্যারেটিভ নির্মাণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলা একাডেমির বিক্রয়কেন্দ্র ও অনলাইন বুকশপগুলোতে বইগুলো পাওয়া যাবে, পাশাপাশি প্রথমা, পাঠক সমাবেশ কেন্দ্র ও বাতিঘরের মতো দোকানেও এসব বই মিলবে বলে জানানো হয়েছে।

কথাপ্রকাশ বিভাগের আরো খবর

Link copied!