• ঢাকা
  • বুধবার, ২৬ জুন, ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১,

সবকিছু ভুলে যাচ্ছেন? মনে রাখবেন যেভাবে


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২, ২০২১, ০৪:১৩ পিএম
সবকিছু ভুলে যাচ্ছেন? মনে রাখবেন যেভাবে

চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনা মনে রাখতে পারছেন না, আবার ক্লাসে শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ পাঠদানও বেমালুম ভুলে যাচ্ছেন? এ ধরনের ঘটনা কি ঘটছে আপনার সঙ্গে? চিকিৎসকরা বলছেন, কোনো কথা বা তথ্য ভুলে যাওয়া একধরনের রোগ, যার নাম “ডিমেনশিয়া”। মস্তিষ্কের  এ ধরনের রোগের ফলে রোগী কিছু মনে রাখতে পারে না।

তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন কিছু অভ্যাসের পরিবর্তন আনলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এমন কিছু অভ্যাস চর্চায় আনতে হবে, যার মাধ্যমে আপনি আপনার স্মৃতিশক্তিকে খুব সহজেই বহুগুণে বাড়িয়ে নিতে পারেন।

চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক অভ্যাসের কোন ধরনের পরিবর্তনে শক্তিশালী হবে আপনার স্মৃতিশক্তি।

নতুনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠুন

আমাদের স্মৃতিশক্তিকে আমরা যত বেশি ব্যবহার করব স্মৃতিশক্তি তত বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তাই নতুন কিছু জানার প্রতি নিজেকে আগ্রহী করে তুলুন। নিজের মস্তিষ্ককে প্রতিদিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিন। যাতে করে মস্তিষ্ক নতুন করে ভাবতে শেখে। সে ক্ষেত্রে আপনি কবিতা লেখা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখা, নতুন কোন ভাষা শেখা, নাচ শেখা, কোন গেম খেলা অথবা বিভিন্ন ধরনের ধাঁধার সমাধান করতে পারেন। এতে আপনার মস্তিষ্ক চঞ্চল হবে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাবে।

পরিপাটি জীবনযাপন করুন

মানুষের স্মৃতিশক্তি তথ্যগুলোকে সব সময় সাজিয়ে-গুছিয়ে উপস্থাপন করতে চেষ্টা করে। তাই আপনি নিজে অগোছালো থাকলে মস্তিষ্কবিষয়ক কাজগুলো এলোমেলো হয়ে যাবে। কাজেই নিজে পরিপাটি গোছালো জীবনযাপন করুন, তখন মস্তিষ্ক তার নির্দিষ্ট গঠনতন্ত্র বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করবে।

নোটবুক ব্যবহার করুন

আপনি চাইলে আপনার সম্পন্নকৃত কাজগুলো মধ্যে একই ধরনের কাজের একটা গ্রুপ তৈরি করতে পারেন অথবা সেগুলো আপনার নোটবুকে নোট করে রাখতে পারেন। সাজানো-গোছানো এই বিষয়গুলো আপনার মস্তিষ্ক খুব সহজেই আপনাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য মনে রাখতে সাহায্য করবে।  

চর্চা করুন

কোনো বিষয় দীর্ঘ সময় মনে রাখতে হলে অবশ্যই চর্চা করতে হবে। আপনি যত বেশি চর্চা করবেন, বিষয়টি তত বেশি স্থায়ী হবে আপনার মস্তিষ্কে। তাই কোনো কিছু একবার দেখে পড়ে বা শুনে রেখে না দিয়ে সেগুলো কিছুদিন পরপর পুনরায় পড়ার এবং বোঝার চেষ্টা করুন।

মনোযোগ দিয়ে শুনুন

অনেক সময় আমাদের সামনে একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও আমরা পরক্ষণেই তা ভুলে যায়। এর প্রধান কারণ আমাদের মনোযোগ তখন ওই সময়টার মধ্যে থাকে না। অথবা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি শুনি না। পরবর্তী সময় আপনি ওই বিষয়টি আর মনে করতে পারবেন না। কারণ, আমরা স্মৃতিতে তার কোনো স্থায়িত্ব তৈরি হয়নি।  

বিস্তারিত জানুন

আপনি যখন কোনো ব্যাপার প্রথমবার শুনছেন বা জানলেন, তখন অবশ্যই সে বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করুন। শুধু আউটলাইন দেখে সেই ব্যাপারে ধারণা করার চেষ্টা করবেন না। বিষয়টির গভীরে গিয়ে জানুন। যখন বিষয়টি আপনি সম্পূর্ণরূপে বুঝতে পারবেন তখন তা মস্তিষ্কে দীর্ঘ সময়ের জন্য থাকবে।

প্রযুক্তিনির্ভরতা কমান

প্রযুক্তি বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে মানুষের জীবনকে সহজ থেকে সহজতর করার লক্ষ্যে। কিন্তু আমরা এই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে দিন দিন মানসিকভাবে অলস হয়ে পড়ছি। মস্তিষ্ককে কাজে না লাগিয়ে মনের সব প্রশ্ন ছেড়ে দিচ্ছি গুগলের কাছে। আর এই কারণেই আমাদের মস্তিষ্ক দিন দিন অকেজো হয়ে পড়ছে।

নিয়মিত ঘুমান

ঘুম মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ঘুমানো বলতে বোঝানো হয়েছে প্রতিদিন ঠিক একই সময়ে ঘুমানো এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা। নিয়মিত ঘুম আপনার মাথা ঠান্ডা রেখে আপনার স্মৃতিশক্তিকে বাড়াতে সাহায্য করে থাকে।

মোবাইল ফোনের আলো কমিয়ে রাখুন

মোবাইল ফোন অথবা কম্পিউটার ল্যাপটপের উজ্জ্বল আলো মানুষের মস্তিষ্কে মেলাটোনিন নামক একধরনের হরমোন উৎপন্ন করে, যা তাদের স্লিপ সাইকেল নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আর এই হরমোনের ফলে আপনি ঘুম থেকে বারবার জেগে উঠতে থাকেন। ঠিকমতো ঘুম না হওয়ার কারণে আপনার মস্তিষ্কের নিউরন ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং তারা সংরক্ষিত তথ্যগুলোকে ঠিকমতো উপস্থাপন করতে পারে না। ঠিক তখনই আপনি বিভিন্ন বিষয়ে ভুলে যাওয়া শুরু করেন।

ধ্যান করুন

ধ্যান মানুষের মস্তিষ্কে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম। ধ্যান আপনার সব ধরনের উদ্বেগ এবং রক্তচাপ কমানোর পাশাপাশি আপনার স্মৃতিশক্তির উন্নতি সাধন করে থাকে। এছাড়া শুধু ধ্যান করার মাধ্যমে আপনার মস্তিষ্কে আবছা হয়ে যাওয়া বিষয়গুলো পুনরায় সতেজ হয়ে ওঠে। বলা হয়ে থাকে যে মানুষের স্মৃতিশক্তিকে বৃদ্ধি করার সবচেয়ে সহজ উপায় হল ধ্যান করা।

শরীরচর্চা করুন

যেহেতু আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের শরীরের অন্যতম একটি অংশ, তাই মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে হলে আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে হবে। নিয়মিত শরীরচর্চা করার মাধ্যমে আমাদের শরীরে রক্তপ্রবাহ ঠিক রাখা সম্ভব, যা আমাদের শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে।

মানসিক চাপ কমান

যখন আপনার শরীরে চাপ বেড়ে যায়, তখন কর্টিসোল নামক একধরনের স্ট্রেস হরমোন নির্গত হয়। প্রাণীদের ওপর এ গবেষণা করে দেখা গেছে যে স্ট্রেস হরমোন মস্তিস্ককে সংকুচিত করে ফেলে। তাই মানসিক চাপ কমানোর মাধ্যমেও আপনি আপনার স্মৃতিশক্তি বাড়াতে পারেন।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

মানুষের মস্তিষ্কের সিংহভাগ পানি দিয়ে তৈরি। পানি স্পাইনাল কর্ডকে সচল রাখতে সহায়তা করে এবং মস্তিষ্কের অন্যান্য কোষগুলোতে পুষ্টি সরবরাহ বজায় রাখে। তাই সামান্য পানিশূন্যতা আপনার মস্তিষ্কে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

পুষ্টিকর খাবার খান

মানুষের স্মৃতিশক্তিকে আস্তে আস্তে কমিয়ে দেয় চিনি, রাসায়নিকভাবে তৈরি বিভিন্ন খাবার, বাটার, লাল মাংস, ভাজা খাবার, লবণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, শস্যজাতীয় খাবার, বাদাম, মুরগির মাংস, নারিকেল তেল, জলপাইয়ের তেল, কাঁচা মরিচ, মাছের তেল ইত্যাদি। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে খাদ্যতালিকায় রাখুন পুষ্টিকর সব খাবার। 

Link copied!