চট্টগ্রাম বন্দরে এসে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে নৌ উপদেষ্টা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
চট্টগ্রাম বন্দরে এসে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে নৌ উপদেষ্টা

চট্টগ্রাম বন্দরে এসে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম. সাখাওয়াত হোসেনকে।

টানা কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়া চট্টগ্রাম বন্দর সচল করতে আজ বৃহস্পতিবার সকালে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করতে আসেন নৌ উপদেষ্টা।

প্রেসমালিকের স্বীকারোক্তি জামায়াত নেতার নির্দেশে ‘ভোটের সিল’ বানান
১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের দিকে যাওয়ার সময় ৪ নম্বর গেটের বাইরে প্রতিবাদকারীদের বাধার মুখে গাড়ি থেকে নামতে হয় উপদেষ্টাকে।

শ্রমিকরা তখন উপদেষ্টাকে ঘিরে ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ড, সরকারের চুক্তি এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। তারা তাদের ডিপি ওয়ার্ল্ডের ‘দালাল’ বলে অভিহিত করেন।

উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে সমস্যাগুলো আলোচনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গত এক বছর ছয় মাস ধরে আমি দেশের জন্য কাজ করছি। পাবর্ত্য চট্টগ্রামে তিন বছর থাকার সময় আমি দেশের জন্য কোনো ক্ষতি করিনি।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন এসময় উপদেষ্টাকে বলেন, স্যার, আমরা দেশবিরোধী নই। আমি গত ৩২ বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে কাজ করছি। আমি আশা করি, শুধু ডিপি ওয়ার্ল্ড নয়, কোনো মাফিয়াই এখানে থাকতে পারবে না।

তিনি অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মুনিরুজ্জামান গত এক বছর ছয় মাসে আন্দোলনকারীদের অযৌক্তিকভাবে শাস্তি দিয়েছেন। তিনি চেয়ারম্যানের বরখাস্তের দাবি জানান উপদেষ্টার কাছে।

এসময় উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন তাদেরকে রাস্তার ওপরে দাঁড়িয়ে না থেকে ভেতরে আলোচনা করার প্রস্তাব দেন। পরে তিনি আশ্বাস দেন যে বৈঠকে শুধু তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সেখানে থাকবেন না। এতে প্রতিবাদকারীরা শান্ত হন এবং তাকে যেতে দেন।

এর আগে সকাল ১১টার দিকে বন্দরের কাস্টমস নিলাম শেডে ঢোকার সময় বিএনপিপন্থী কর্মী ও শ্রমিকরা আরেকবার উপদেষ্টার গাড়ি আটকে দেন। তারা এনসিটির পরিচালনা ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন।

পরে উপদেষ্টা আশ্বাস দেন যে, তিনি সমিতির নেতাদের সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে আলাদা করে আলোচনা করবেন। এরপর শ্রমিকরা তাকে যেতে দেন।
বন্দরে উপদেষ্টা আসার আগে সমিতির প্রায় ৫০ জন কর্মী নিলাম শেডের সামনে একটি মিছিল বের করে এবং মানববন্ধন আয়োজন করেছিল।

Link copied!