স্বামীর নাম ধরে ডাকা জায়েজ কি না—এ বিষয়ে ইসলামে সরাসরি “হারাম/নিষেধ” ধরনের স্পষ্ট বিধান নেই; বিষয়টি অনেকটাই সমাজের প্রচলিত রীতি, ভদ্রতা ও পারস্পরিক সম্মানবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত।
পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর সম্পর্কগুলোর একটি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। সুখময় দাম্পত্য জীবন মহান আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত—আর ঝগড়া ও মনোমালিন্য সেই সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সামাজিক রীতি কী বলে
স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে নাম ধরে ডাকার বিষয়টি মূলত সামাজিক রীতিনীতির ওপর নির্ভরশীল।
যেখানে স্বামীর নাম ধরে ডাকাকে অসম্মানজনক বা অসুন্দর মনে করা হয় না, সেখানে নাম ধরে ডাকায় দোষ নেই।
কিন্তু যেখানে এটিকে সম্মানহানি বা বেয়াদবি হিসেবে দেখা হয়, সেখানে নাম ধরে না ডাকাই শোভন।
শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি ও আদব
আমাদের সমাজে সাধারণভাবে স্বামীর নাম ধরে ডাকাকে অনেক সময় অসম্মানজনক হিসেবে ধরা হয়—এ কারণে অনেক ফুকাহা এটিকে ‘মাকরুহ’ বা অপছন্দনীয় বলেছেন।
এ প্রসঙ্গে ইবনে আবেদিন শামি (রহ.) ব্যাখ্যা করে বলেন, স্বামীকে এমন শব্দে ডাকা উচিত যা সম্মান প্রকাশ করে—যেমন “হে আমার সর্দার”, “অমুকের পিতা”, বা পেশাভিত্তিক সম্মানসূচক সম্বোধন যেমন “ইমাম সাহেব”, “ডাক্তার সাহেব” ইত্যাদি; কারণ পিতা ও স্বামীর হক তুলনামূলকভাবে বেশি।
অর্থাৎ লক্ষ্য হলো—সম্মান বজায় রেখে এমন সম্বোধন বেছে নেওয়া, যাতে স্বামীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ না হয়।
প্রয়োজন হলে নাম বলা যাবে
স্বামীকে সম্মান দেখানোর জন্য সাধারণভাবে নাম ধরে ডাকা এড়িয়ে চলা ভালো বলা হলেও, প্রয়োজনে স্বামীর নাম উচ্চারণ করা “নিষেধ”—বিষয়টি এমন নয়।
প্রয়োজন বা প্রসঙ্গ অনুযায়ী (যেমন কারও প্রশ্নের উত্তরে/চেনানোর জন্য) স্বামীর নাম বলা যাবে।
করণীয় কী
আপনার এলাকার রীতি ও পরিবারের সংস্কৃতিতে যেটা বেশি ভদ্র ও সম্মানজনক, সেটাই অনুসরণ করুন।
স্বামী যে সম্বোধনে খুশি হন এবং যাতে অসম্মান না হয়—সেটি বেছে নিন (যেমন: “শুনছেন?”, “আপনি”, “অমুকের বাবা”, “স্যার/সাহেব” ইত্যাদি)।
নাম ধরেই ডাকতে হলে সেটি যেন তুচ্ছতাচ্ছিল্য, রাগ বা অপমানসূচক ভঙ্গিতে না হয়—সম্মান ও সৌজন্য বজায় রাখুন।






































