আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাড়িতে আগুন-সংঘর্ষ, গুলিতে স্কুলছাত্র নিহত


নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাড়িতে আগুন-সংঘর্ষ, গুলিতে স্কুলছাত্র নিহত

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে বাড়িঘরে আগুন ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় মুস্তাকিম মিয়া (১৩) নামে এক স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। আজ বুধবার সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মুস্তাকিম সৌদি আরব প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে উপজেলা চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় হানিফ মাস্টার ও এরশাদ মিয়া গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় উভয়পক্ষে নারীসহ কমপক্ষে ৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এবং বাড়িঘরে হামলা ও লুটেরও ঘটনা ঘটে। এরই জেরে আজ সকাল ৬টার দিকে বালুচর গ্রামের এরশাদ গ্রুপের লোকজন দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সায়দাবাদ গ্রামের হানিফ মাস্টার গ্রুপের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় হানিফ মাস্টারের লোকজনদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয় মুস্তাকিম। এতে সে নিহত হয়। এছাড়াও আগুনে ৪টি ঘর পুড়ে যায় ও কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। তবে আহতরা পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে গোপনে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে যান পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতের মা শাহানা বেগম বলেন, ‘সকালে আমার ছেলে বাড়ি আঙ্গিনায় দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়না গুলি করে হত্যা করে। আমরা নিরপেক্ষ, কোনো দলের নেই। তবুও যারা আমার বুক খালি করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুস্তাকিম নামে একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, তার শরীরের বাম পাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে। বিস্তারিত ময়নাতদন্তের পর বলা যাবে।

এদিকে সায়দাবাদ গ্রামের লোকজন অভিযোগ করে বলেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শুধু আমাদের সায়দাবাদ গ্রামে বিভিন্ন সময় এসে অভিযান পরিচালনা করে। এতে আমাদের গ্রামের কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে গ্রাম প্রায় পুরুষ শূন্য। আর এই সুযোগেই প্রতিপক্ষের লোকজন বালুচর গ্রাম থেকে এসে আমাদের গ্রামে ভোরে হামলা চালায়। এ হামলায় স্কুলছাত্র মুস্তাকিম গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যদি ওই গ্রামের অভিযান পরিচালনা করতো এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতো তবে হয়তো এমন দৃশ্য দেখতে হতো না। দু’গ্রামই শান্ত থাকতো।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Link copied!