• ঢাকা
  • সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১, ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

বিলুপ্ত বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ‘দেশ’


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২১, ০৪:০২ পিএম
বিলুপ্ত বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ‘দেশ’

বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশ ‘প্রিন্সিপ্যালিটি অব হাট রিভার’। যার আয়তন মাত্র ৭৫ বর্গ কিলোমিটার। ছোট এই দেশটির বাসিন্দা মাত্র ২৬ জন।

ছোট দেশটি অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে অবস্থিত। অস্ট্রেলিয়ার শহর পারথের ৫১৭ কিলোমিটার উত্তরে হাট নদীর তীরে অবস্থিত প্রিন্সিপ্যালিটি অব হাট রিভার। একটি স্বাধীন দেশের মতোই এই দেশের নিজস্ব মুদ্রা, নিজস্ব পাসপোর্ট, ভিসা  রয়েছে। তবে ছোট এই দেশটিকে মর্যাদা দিতে নারাজ অস্ট্রেলিয়ার বাকি দেশগুলো।

৫১ বছর আগের কথা। অস্ট্রিয় সরকারের এক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এই ভূখণ্ডের বাসিন্দা লিওনার্দ ক্যাসলে। ওই সময় ভূখণ্ডকে আলাদা দেশ হিসেবে দাবি করেন তিনি। সেই পুরো ভূখণ্ডই লিওনার্দের নিজের সম্পত্তি ছিল।

ভূখণ্ডে চাষের জমি ছিল। প্রতি বছর ৪ হাজার হেক্টর গম উৎপাদন হত এ জমিতে। প্রশাসন গম কেনাবেচায় নতুন নিয়ম চালু করে। এতে ৪ হাজার হেক্টর জমির ফসলের পরিবর্তে মাত্র ৯৯ একর জমিতে ফসল ফলাতে পারতেন এবং তিনি তা  বিক্রি করতেন। বাকি ফসল নষ্ট হতো।

প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত প্রতিবাদ করেন লিওনার্দ। এরপর নিজের ভূখণ্ডকে আলাদা দেশ হিসাবে ঘোষণা করেন। যার নাম রাখের ‘প্রিন্সিপ্যালিটি অব হাট রিভার’।

ছোট ভূখণ্ডের রাজা হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করেন লিওনার্দ। এরপর ধীরে ধীরে আলাদা মুদ্রা চালু করেন, আলাদা নকশায় পতাকা তৈরি করেন, সরকারি কাজকর্মের জন্য আলাদা সিলমোহর চালু করেন। এমনকি পাসপোর্ট, ভিসা সবই আলাদা করেন।

প্রচলিত মুদ্রার নাম দেন হাট রিভার ডলার। যার মূল্যমান অস্ট্রেলিয়ান ডলারের সমান।

১৯৭০ সালে ২১ এপ্রিল দেশটির প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে আমন্ত্রণ জানান লিওনার্দ। ব্রিটেনের রানি তখন অস্ট্রেলিয়ারও রানি ছিলেন। সেই আমন্ত্রণে যাননি রানি। তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি চিঠি পাঠান। সেই চিঠিই লিওনার্দের শক্তি হয়ে দাড়ায়।

এতোটা ঝক্কি ঝামেলার পরও স্বীকৃতি পায়নি দেশটি। কারণ একে আলাদা দেশ হিসাবে মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া। তাই পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার প্রচলিত সব আইন ছোট এই দেশটির উপর প্রযোজ্য ছিল।

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার প্রতি নাগরিকদের কর দেওয়ার নিয়ম লিওনার্দের ওপরও বরাদ্দ ছিল। এর প্রতিবাদে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন,  কিন্তু ব্যর্থ হয়ে ফিরেছেন।

২০১৭ সাল পর্যন্ত দেশটিতে রাজত্ব করেন লিওনার্দে। এরপর ছেলে গ্রেমির মাথায় রাজ মুকুট পরিয়ে দেন।

দেশটির খবর শুনে হাজারো পর্যটক সেখানে ভিড় করেন। আলাদা ভিসা নিয়ে পর্যটকরা সেখানে যান। প্রতি বছর পর্যটকদের  থেকেই মোটা অর্থ উপার্জন শুরু হয়।

কিন্তু নিয়মের বাইরে যাওয়ার সাধ্য ছিল না লিওনার্দের। ওই বছর সুপ্রিম কোর্ট তাকে নোটিস পাঠায়। বকেয়া ২৭ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার কর দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আইনি জটিলতা থেকে তার আর রেহাই হয়নি। নিজের স্বপ্ন বুকে চেপে ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন।

লিওনার্দের মৃত্যুর পর দেশটির অর্থনীতি চরম হুমকির মুখে পড়ে। পর্যটকরাও  সেখানে যাওয়া বন্ধ করে দেন। ক্ষতি পোষাতে না পেরে ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি লিওনার্দের বংশধরেরা দেশেটির সীমান্ত বন্ধের ঘোষণা করেন। বিলুপ্ত হয়ে যায় স্বতন্ত্র ইতিহাসের সাক্ষী বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশটি।

সূত্র: সিএনএন

Link copied!