বলিউডে তারকাদের প্রকাশ্য উপস্থিতি মানেই নিখুঁত সাজগোজ। ঐশ্বর্যা রাই বচ্চনের মতো তারকারা প্রায়শই স্টাইলিস্টের পরামর্শে নিজেকে উপস্থাপন করেন, কারণ তাঁদের প্রতিটি লুক জনমানসে প্রভাব ফেলে। সামান্য ভুলচুক হলেই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তবে সেই চাপটা নেই শ্বেতা বচ্চন নন্দের জীবনে।
বলিউডের এই আলোচিত ননদ–বৌদির সম্পর্ক যেন এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতার গল্প। একজন প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী, বলিউড অভিনেত্রী ও অমিতাভ বচ্চনের পুত্রবধূ—ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন। অন্যজন সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চনের কন্যা, লেখিকা ও ফ্যাশন আইকন হিসেবে পরিচিত শ্বেতা বচ্চন নন্দ। একজন মঞ্চে উঠলে যেন অন্যজন নীরবে সরে যান—এমনটাই বলিউড মহলের চর্চা।
ঐশ্বর্যা পেশাগত কারণেই সবসময় গ্ল্যামারের আলোয়। অন্যদিকে, বিনোদন দুনিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না হয়েও শ্বেতা বরাবরই চর্চার কেন্দ্রে। কে বেশি সুন্দরী—সে তর্ক চলতেই পারে, তবে ফ্যাশনের ময়দানে বহুবার ঐশ্বর্যাকে টেক্কা দিয়েছেন শ্বেতা।
ছোট থেকেই ফ্যাশনের পরিবেশে বড় হওয়া শ্বেতা একসময় নামী ডিজাইনারদের হয়ে মডেলিংও করেছেন। আবু জানি–সন্দীপ খোসলা, মণীশ মলহোত্রার মতো খ্যাতনামী ডিজাইনারদের পোশাকে র্যাম্পে হেঁটেছেন তিনি। ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতা, রোগাটে গড়ন ও শার্প ফিচারের জন্য তাঁকে আরও লম্বা ও এলিগ্যান্ট দেখায়। এমন গঠন ফ্যাশন দুনিয়ায় অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত।
বড় চোখ, ঢেউ খেলানো লম্বা চুল আর মুখের ধ্রুপদী আদলের জন্যই আবু জানি ও সন্দীপ খোসলা তাঁকে ‘ক্লাসিক্যাল বিউটি’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। ধ্রুপদী শিল্প ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া যাঁদের ডিজাইনে বরাবরই থাকে, তাঁদের পছন্দের মডেল ছিলেন শ্বেতাই।
বিয়ের পর দীর্ঘদিন লাইমলাইট থেকে দূরে ছিলেন শ্বেতা। তবে মেয়ে নব্যা নবেলী নন্দ বড় হওয়ার পর ফের সামাজিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত দেখা যেতে শুরু করে তাঁকে। বিভিন্ন পার্টি, ফ্যাশন শো, এমনকি বাবার সঙ্গে র্যাম্পেও হাঁটতে দেখা গেছে তাঁকে।
নিজের ফ্যাশন নিয়ে কখনও উচ্চবাচ্য করেননি শ্বেতা। তাঁর স্টাইল বরাবরই নীরব অথচ আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে, একসময় রেড কার্পেটে মুগ্ধ করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঐশ্বর্যার ফ্যাশন নির্বাচন নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি—বিশেষ করে কান চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর কয়েকটি লুক নিয়ে।
শ্বেতার সাজ সবসময় প্রশংসা কুড়িয়েছে—এমন নয়। মাঝেমধ্যে তাঁর ফ্যাশন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবু পরীক্ষানিরীক্ষা থেকে পিছিয়ে আসেননি তিনি। সেই সাহসই নজর কেড়েছে ফ্যাশন বোদ্ধাদের। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ড কোলাবরেশন, বিজ্ঞাপন ও ফ্যাশন ম্যাগাজিনের ফটোশ্যুটে ঐশ্বর্যার তুলনায় শ্বেতাকেই বেশি দেখা গেছে।
ভ্রাতৃবধূর অনুরাগীরা তাঁকে নিয়ে সমালোচনা করলেও কখনও নিজেকে প্রমাণ করার তাড়না দেখাননি শ্বেতা। দুই সন্তান—নব্যা ও অগস্ত্যকে নিয়েই থেকেছেন ব্যস্ত। আর সুযোগ পেলেই নিজের মতো করে সাজগোজে মেলে ধরেছেন তাঁর শিল্পবোধ।
স্টাইলিস্ট-নির্ভর গ্ল্যামারের বাইরে দাঁড়িয়ে শ্বেতা নিজের ইচ্ছেমতো সাজতে পারেন। আর যখন সেই সাজের তুলনা হয় বলিউডের অন্যতম ফ্যাশন আইকন ঐশ্বর্যা রাই বচ্চনের সঙ্গে, তখন শ্বেতার স্টাইল ও রুচিকে পিছিয়ে রাখা যায় না। বরং অনেকের মতে, নম্বরের খাতায় তিনি সামান্য এগিয়েই।

































