গমের অষ্টম বৃহত্তম বাজার বাংলাদেশ


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১২:০৬ এএম
গমের অষ্টম বৃহত্তম বাজার বাংলাদেশ

 

 

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর বাংলাদেশ এখন মার্কিন গমের অষ্টম বৃহত্তম বাজারে পরিণত হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের গম আমদানির শীর্ষ ২৫ বাজারের তালিকায়ও ছিল না বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি দুই দেশের বাণিজ্যঘাটতি কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের খাদ্য বিভাগের সাইলো জেটিতে ‘সেলিব্রেটিং ইউএস হুইট অ্যারাইভেল ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারিভাবে প্রায় ৫৭ হাজার টন গম আমদানি উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের গম রপ্তানিকারক সংস্থা ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। ওই চুক্তির আওতায় পাঁচ বছরে প্রতিযোগিতামূলক দামে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে সাত লাখ টন করে মোট ৩৫ লাখ টন গম আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা পাল্টা শুল্ক কমানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। এই গমের চালান দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সম্পর্কের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। তাঁর মতে, মার্কিন গম কেনা যেমন আমেরিকান কৃষকদের জন্য ইতিবাচক, তেমনি বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও এটি পুষ্টিকর খাদ্যপ্রাপ্তির একটি বড় সুযোগ।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফিরোজ সরকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা গমের মান অত্যন্ত ভালো এবং এতে প্রায় ১৪ শতাংশ আমিষ রয়েছে। ভবিষ্যতেও জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ একদিকে খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার করছে, অন্যদিকে তৈরি পোশাক খাতে শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (সংগ্রহ) মো. মনিরুজ্জামান।

অনুষ্ঠান শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সাইলো জেটিতে লাইটার জাহাজ থেকে পাইপের মাধ্যমে গম খালাসের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের কালামা বন্দর থেকে এমভি ক্লিপার ইসাডোরা জাহাজে করে ৫৭ হাজার ২০৩ টন গমের চালানটি গত ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি সরাসরি জেটিতে ভিড়তে না পারায় লাইটার জাহাজে স্থানান্তরের মাধ্যমে গম খালাস করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই চালানটি মোট এক লাখ ৭৩ হাজার টনের বেশি গম সরবরাহের অংশ। এর মধ্যে ওয়াশিংটন, ওরেগন ও আইডাহো অঙ্গরাজ্য থেকে প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার টন হোয়াইট গম এবং মনটানা ও নেব্রাস্কা থেকে প্রায় ৬০ হাজার টন হার্ড রেড উইন্টার জাতের গম রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ বছরে গমের মোট চাহিদার মাত্র ১৩ শতাংশ উৎপাদন করতে সক্ষম। বাকি ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টন গম আমদানির মাধ্যমেই দেশের চাহিদা পূরণ করা হয়।

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!