বলিউড তারকারা আজ কোটি কোটি টাকা আয় করেন, একেকজন যেন একেকটা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মতো পরিচিত। তবে যাঁদের আজ নামের আগে ‘সুপারস্টার’ শব্দটা জুড়ে যায়, তাঁদের যাত্রাও শুরু হয়েছিল একেবারে সাধারণ এক প্রথম আয়ের গল্প দিয়ে—যেখানে টাকার অঙ্ক ছোট হলেও স্বপ্নটা ছিল অনেক বড়। শাহরুখ খান থেকে আমির, হৃতিক, দীপিকা, প্রিয়াঙ্কা ও সোনম—সবাইয়ের জীবনের সেই প্রথম উপার্জনের স্মৃতি আজও তাঁদের কাছে বিশেষ।
বলিউডের বাদশা শাহরুখ খানের প্রথম আয় ছিল মাত্র ৫০ রুপি, যা তিনি পেয়েছিলেন দিল্লিতে গায়ক পঙ্কজ উধাসের এক কনসার্টে উশার হিসেবে কাজ করে। সেই টাকাটা হাতে পেয়েই বন্ধুদের সঙ্গে ট্রেনে চেপে চলে যান আগ্রা, ঘুরে দেখেন প্রেমের প্রতীক তাজমহল—একেবারে সিনেমার মতোই রোমান্টিক এই সিদ্ধান্ত যেন তাঁর পরের পুরো ক্যারিয়ারের স্বপ্নময়তারই আভাস। আজ তিনি যখন একেকটি ছবির জন্য ৪০–৪৫ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নেন, তখন এই ৫০ রুপির স্মৃতি আরও বেশি অনুপ্রেরণাদায়ক হয়ে ওঠে।
আমির খানের প্রথম উপার্জন ছিল মাত্র ১,০০০ রুপি, যা তিনি পান ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ ছবিতে সহকারী হিসেবে কাজ করার সময় মাসিক বেতনের মাধ্যমে। সেই ছোট্ট অঙ্কের পুরো টাকাটাই তিনি তুলে দেন মায়ের হাতে, যা শুধু অর্থ নয়—বরং এক সন্তানের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর দায়িত্ববোধের প্রতীক হয়ে যায়। আজ আমির একটি সিনেমার জন্য ১০০ কোটিরও বেশি পারিশ্রমিক নিতে পারেন, কিন্তু প্রথম আয় নিয়ে তাঁর সেই স্মৃতিটাই তাঁকে বারবার সাধারণ জীবনের শুরুর দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়।
হৃতিক রোশনের অভিনয়যাত্রা শুরু হয় মাত্র ছয় বছর বয়সে, শিশুশিল্পী হিসেবে ‘আশা’ ছবিতে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করে তিনি পারিশ্রমিক পান ১০০ রুপি। সেই টাকায় হৃতিক নিজের জন্য কিনে নেন বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত একটি খেলনা গাড়ি, যা তাঁর শিশুমনকে যেমন আনন্দ দিয়েছে, তেমনি পরের জীবনে পরিশ্রম করে নিজের স্বপ্নপূরণের অদৃশ্য প্রেরণাও জুগিয়েছে। পরবর্তীতে ‘কহো না… প্যায়ার হ্যায়’ দিয়ে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশের সময় তাঁর পারিশ্রমিক লাফিয়ে বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ রুপিতে, আর এখন তিনি একেকটি ছবির জন্য ৭৫–১০০ কোটি রুপি পর্যন্ত নিয়ে থাকেন।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার প্রথম আয় ছিল ৫ হাজার রুপি, যা তিনি মিস ওয়ার্ল্ড হওয়ার পর একটি পেশাদার অ্যাসাইনমেন্ট থেকে পান। নিজের জন্য কিছু না কিনে সেই পুরো অর্থ তিনি মায়ের হাতে তুলে দেন, আর শোনা যায়—তাঁর মা আজও সেই টাকাগুলো সযত্নে রেখে দিয়েছেন, মেয়ের প্রথম সাফল্যের স্মৃতি হিসেবে। এখন প্রিয়াঙ্কা একটি ছবি বা বড় কোনো প্রোজেক্টের পাশাপাশি শুধু একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টের জন্যই গড়ে প্রায় ১.৮ কোটি রুপি পর্যন্ত আয় করেন, যা তাঁর পরিশ্রম ও আন্তর্জাতিক সফলতার প্রতিফলন।
দীপিকা পাড়ুকোনের প্রথম আয় ছিল প্রায় ২ হাজার রুপি, যা তিনি একজন মডেল হিসেবে প্রাথমিক কাজ থেকে উপার্জন করেছিলেন। তিনি সেই প্রথম পারিশ্রমিক বাবার হাতে তুলে দেন, যেন নিজের স্বপ্নযাত্রার প্রথম পদক্ষেপেই বাবার প্রতি ভালোবাসা ও সম্মানকে প্রাধান্য দেন। বর্তমানে দীপিকা বলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া নায়িকাদের একজন; একটি ছবির জন্য তিনি ২০ কোটিরও বেশি রুপি নেন, পাশাপাশি বিজ্ঞাপন আর আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড-এনডোর্সমেন্ট থেকেও বিপুল আয় করেন।
অন্যদিকে সোনম কাপুর অভিনয় নয়, বরং ক্যামেরার পেছন থেকে নিজের যাত্রা শুরু করেন; সঞ্জয় লীলা বনসালির ‘ব্ল্যাক’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করে তিনি প্রথমে মাসে ৩ হাজার রুপি বেতন পেতেন। সেই টাকায় তিনি মুম্বাইয়ে যাতায়াত, খরচ আর ছোটখাটো ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটাতেন—ক্যামেরার পেছনের এই পরিশ্রমই তাঁকে পরবর্তীতে বড় বাজেটের ছবির নায়িকা হওয়ার পথ দেখায়। পরের সময়ে সোনম নিজে অভিনয়ে আসার পর একেকটি ছবির জন্য লাখ লাখ রুপি পারিশ্রমিক পেয়েছেন, আর এখন তিনি সিনেমার পাশাপাশি ফ্যাশন ও ব্যবসায়ে জড়িয়ে ব্র্যান্ড হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
বলিউডের এই তারকারা এখন যখন একেকটি ছবির জন্য ২০ থেকে ১০০ কোটির বেশি রুপি পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেন, তখন তাঁদের প্রথম আয়ের গল্পগুলো মনে করিয়ে দেয়—বড় কিছু সবসময় ছোট থেকেই শুরু হয়। কয়েকশো বা কয়েক হাজার রুপির সেই প্রথম পারিশ্রমিকই তাঁদের হাতে তুলে দিয়েছিল আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতা আর স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার সাহস, যা আজ তাঁদের এনে দিয়েছে সুপারস্টারের তকমা ও অগণিত ভক্তের ভালোবাসা।















