ঐতিহাসিক একুশে ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমবারের মতো পুষ্পস্তবক অর্পণ করলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ২২ মিনিটে তিনি শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দেন এবং ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন। তার সঙ্গে ছিলেন এনসিপির নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন এবং ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।
'রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এসেছি'
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনার এলাকায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জামায়াত আমির। 'জামায়াত কখনো ফুল দিতে শহীদ মিনারে আসেনি, এবার কী মনে করে এলেন'—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সঙ্গীদের নিয়ে আমাকে আসতে হবে, তাই এসেছি।' এরপর সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, 'জামায়াত কি এখনো ফুল দেওয়াকে নাজায়েজ মনে করে?'—তাতে বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি পাল্টা বলেন, 'এমন একটা পবিত্র দিনে এ ধরনের প্রশ্ন আপনি কেন করছেন? এ প্রশ্ন না করাই ভালো।' এরপর আর কোনো প্রশ্ন না নিয়েই শহীদ মিনার ত্যাগ করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে তুমুল আলোচনা
জামায়াত ইসলামী ঐতিহ্যগতভাবে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার কার্যক্রম পালন করেনি এবং দলটির নেতারা দীর্ঘদিন ধরে এটিকে 'অনৈসলামিক' বলে আখ্যায়িত করতেন। এবার দলীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি না রাখলেও বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শফিকুর রহমানের শহীদ মিনারে যাওয়ার বিষয়টি আগে থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল। এই পদক্ষেপ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আজিমপুরে কবর জিয়ারত
শহীদ মিনার থেকে সরাসরি আজিমপুর কবরস্থানে যান ডা. শফিকুর রহমান। সেখানে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করেন। আজিমপুরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত মানুষের অধিকারের জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের সবার জন্যই মোনাজাত করা হয়েছে। ভাষার অধিকার অর্জিত হলেও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই এখনো শেষ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




































