রমজান মাসে শয়তান কেন বন্দি হয়?


জাহিদ আহমেদ জয়
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
রমজান মাসে শয়তান কেন বন্দি হয়?

রমজান মাস ইসলামে অত্যন্ত পবিত্র। এ মাসে নাজিল হয়েছে পবিত্র আল-কোরআন, যা মানুষকে দিশারি দেয় এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বোঝায়। ইসলামী হাদিস অনুযায়ী, এই মহিমান্বিত মাসে শয়তানকে শিকলে আবদ্ধ করা হয় এবং জান্নাতের দরজাগুলো খোলা হয়।

হাদিসে বর্ণিত আছে, নবী ﷺ বলেছেন: “মাহে রমজান শুরু হলে আকাশের দরজাসমূহ খোলা হয়, জান্নাতের দরজাসমূহ খোলা হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয় এবং শয়তানকে শিকলে আবদ্ধ করা হয়।” (বুখারী, মুসলিম)

তবে, বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেছেন যে মানুষ রমজানেও পাপ করতে পারে। এর কারণগুলো হলো:

  1. কুপ্রবৃত্তি ও বদ অভ্যাস: মানুষের নিজস্ব দুষ্ট অভ্যাস এখনও প্রভাব ফেলে।

  2. শয়তানের পরোক্ষ প্রভাব: সব শয়তান বন্দি হয় না; অতিরিক্ত দুষ্ট শয়তানকে আটকানো হয়, কিন্তু অন্যদের প্ররোচনা চলতে পারে।

  3. আগের পাপের প্রভাব: রমজানের আগে করা পাপের প্রভাব কিছুক্ষণ পর্যন্ত মানুষের কাছে থাকে।

  4. মানুষের মধ্যেও শয়তানী প্রবণতা: কোরআনে নির্দেশ আছে মানুষকে কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় নেওয়ার জন্য।

  5. রোজার শর্ত না মানা: যারা রোজার আদব ঠিকভাবে পালন করে না, তাদের শয়তান থেকে পুরোপুরি নিরাপদ রাখা হয় না।

এভাবে, শয়তান বন্দি থাকলেও মানুষের মধ্যে দুষ্ট প্রবণতা ও অভ্যাস রমজানে পাপের কারণ হতে পারে।

উল্লেখ্য, রমজান মাসের গুরুত্ব বোঝাতে বুখারি শরিফে হাদিস বর্ণিত, যেখানে নবী ﷺ বলেন, বেহেশতের আটটি দরজার মধ্যে একটি “রায়্যান” এবং এটি শুধু রোজাদারদের জন্য খোলা থাকবে।

রমজান তাই শুধু পাপের কম সময়ে নয়, বরং ইবাদত ও নেক কাজের জন্য সেরা সময়

Link copied!