একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার মুখে পড়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এই ঘটনার পর তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিএনপি যদি এখনই তার নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ না করে, তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।
কী ঘটেছিল সরাইল শহীদ মিনারে
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে বারোটার দিকে সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছান রুমিন ফারহানা। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে রাত ১২টা ১ মিনিটে সবার আগে তারই ফুল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই মুহূর্তে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির একাংশ 'ভুয়া ভুয়া' স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে আসে এবং দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে রুমিন ফারহানার পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং কিছু ব্যক্তি জুতা পরেই শহীদ বেদিতে উঠে যায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মহাসড়ক অবরোধ
ঘটনার জের ধরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে রুমিন ফারহানার কয়েক শত সমর্থক লাঠি হাতে নেমে টায়ার জ্বালিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর এলাকায় অবরোধ বসান। প্রশাসনের আশ্বাসের ভিত্তিতে প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত দেড়টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। তবে এই অবরোধে মহাসড়কের দুই দিকে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
রুমিনের কঠোর হুঁশিয়ারি
ঘটনার পর সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রুমিন ফারহানা এই হামলাকে 'পুরোপুরি পূর্বপরিকল্পিত' ও 'ভয়ংকর হিংস্রতা' বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর লুকিয়ে থাকার পর বিএনপি নেতাকর্মীরা এখন যে হিংস্রতা নিয়ে রাজনৈতিক পদ ব্যবহার করার চেষ্টা করছে, দলের উঁচু পর্যায় থেকে এটি তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ না করা হলে দলের জন্যই তা ভীষণ ক্ষতিকর হবে। তার দাবি, নির্বাচনে পরাজয়ের ক্ষোভ ও কোটি টাকার লেনদেনে ব্যর্থতা থেকেই গুন্ডা প্রকৃতির লোকেরা এই তাণ্ডব চালিয়েছে।
এদিকে সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুল ইসলাম ঠাকুর জানান, দলীয় সিদ্ধান্তে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার বিষয়টি ছিল; এর বাইরে যা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হবে।




































