ভাষাশহীদদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের গভীর শ্রদ্ধা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ১১:২৩ এএম
ভাষাশহীদদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের গভীর শ্রদ্ধা

যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে সারা দেশে পালিত হচ্ছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের প্রথম প্রহরেই রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদি ফুলে ফুলে ভরে ওঠে এবং ঢল নামিয়ে পুরো জাতি ভাষাশহীদদের প্রতি নত হয়।

প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ বেদিতে পৌঁছে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মরণ করেন। অমর একুশের গান 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি' বেজে ওঠে এবং ঐতিহ্যবাহী শোকস্তবক পড়া হয়।

এরপর রাত ১২টা ৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব নাজির মাহমুদ মোনাজাত পরিচালনা করেন এবং ৯০ ও ২৪ এর শহীদসহ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্যও দোয়া হয়।

পরে মন্ত্রিপরিষদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে পুনরায় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী এবং দলীয় প্রধান হিসেবে বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে আবার ফুল দেন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান যারা পরিবারসহ শহীদ বেদিতে ফুল অর্পণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা শেষে তিন বাহিনী প্রধান ৫২-এর বীর শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা একে একে শ্রদ্ধা জানান। প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, সঙ্গে ছিলেন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা এবং পরে আজিমপুরে শহীদদের কবরে দোয়া-মোনাজাত করেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় আচার শেষে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ, খালি পায়ে হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে ভিড় করে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। কেউ একা, কেউ পরিবারসহ নতুন প্রজন্মকে নিয়ে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শেখান।

১৯৫২-এর এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় জীবন দান করেন জাতির সূর্যসন্তানরা। তাদের আত্মত্যাগের স্মৃতিতে একুশ এখন শোকের পাশাপাশি গৌরব ও আত্মমর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংসকৃতিক সংগঠনের ব্যানারে শ্রদ্ধা নিবেদিত হয়েছে এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।

Link copied!