আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ইউনেস্কো সদরদপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও বহুভাষাবাদ প্রসারে নতুন বৈশ্বিক কার্যক্রম গ্রহণের ঘোষণা এসেছে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের মূল উদ্যোগটি ছিল বাংলাদেশেরই—১৯৯৯ সালের ইউনেস্কো সাধারণ সম্মেলনে এটি অনুমোদিত হয় এবং ২০০০ সাল থেকে সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে।
ঐতিহাসিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫টায় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ইউনেস্কো সদরদপ্তরে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। এবারের আয়োজনে একটি বিশেষ মাইলফলক স্পর্শ করা হয়—প্রথমবারের মতো ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের সভাপতি, নির্বাহী পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং মহাপরিচালক একই অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিত থেকে দিনটির গুরুত্ব অসাধারণভাবে বাড়িয়ে দেন। নির্বাহী পর্ষদের সভাপতি, কাতারের রাষ্ট্রদূত নাসের হিনজাব এই আয়োজনে বাংলাদেশের নেতৃত্বের বিশেষ প্রশংসা করেন।
ইউনেস্কো মহাপরিচালকের ঘোষণা
ইউনেস্কোর নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ড. খালেদ এল এনানি বলেন, শিক্ষাজীবনই তরুণ প্রজন্মের মাতৃভাষা ও বহুভাষাবাদ চর্চার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এবং অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণে মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও প্রসারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। মাতৃভাষা সংরক্ষণে বাংলাদেশের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলায় বক্তব্য রাখা রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান তিনি।
বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতের আহ্বান
স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে ইউনেস্কোর কার্যক্রম বিশ্বের মানুষের কাছে তাদের নিজ নিজ ভাষায় পৌঁছানো অপরিহার্য। তিনি মাতৃভাষা সংরক্ষণে শক্তিশালী কর্মপরিকল্পনা তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় সম্পৃক্ততার উপর জোর দেন।
বহুভাষিক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন
অনুষ্ঠানে 'শান্তি ও টেকসই উন্নয়নে ভাষার ভূমিকা' শীর্ষক বিশেষ আলোচনায় তানজানিয়ার সংস্কৃতিমন্ত্রী, পূর্ব তিমুরের শিক্ষামন্ত্রী এবং দক্ষিণ আমেরিকার ইনকা সম্প্রদায়ের কেচুয়া ভাষাবিদরা অংশ নেন। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন স্পেনের ভাষা গবেষক প্রফেসর ড্যামিয়েন ব্লাসি। লুক্সেমবুর্গ, আজারবাইজান, মলদোভা, ইউক্রেন, শ্রীলঙ্কা ও ব্রাজিলসহ একাধিক দেশ এই আয়োজনে শরিক হয়। দিনের শেষভাগে বাংলাদেশের শিল্পীদের পরিবেশিত ফোক সংগীত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
প্রায় দুই শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং মাতৃভাষা সংরক্ষণে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুনভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে বলে তারা অভিমত দেন।








































