সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির যারা এগিয়ে ​


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ১১:৩০ এএম
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির যারা এগিয়ে ​

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের রেশ কাটতে না কাটতেই দলের অন্দরে এখন আরেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে কারা যাচ্ছেন। সংবিধান অনুযায়ী যে দল সাধারণ আসনে যতটি আসন পায়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টিত হয়। জাতীয় সংসদে ২০৯টি আসনে জয়লাভের ভিত্তিতে বিএনপির ভাগে পড়ছে ৩৫টি, জামায়াত জোট পাবে ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা পাবেন একটি।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, রমজানের মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়, এবং সে লক্ষ্যে ঈদের আগেই সব কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলতে চায় কমিশন।

মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যে শতাধিক বিএনপি নেত্রী দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন, যাদের বেশিরভাগই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী, মনোনয়নবঞ্চিত ও পরাজিত প্রার্থী। অনেকেই ঢাকায় অবস্থান করে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির করছেন। বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম সূত্র বলছে, বিগত ১৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়, হামলা-মামলা-কারাবরণ করা তরুণ নেত্রীদের বিশেষভাবে মূল্যায়নের সম্ভাবনা রয়েছে, পাশাপাশি কয়েকজন প্রবীণ ত্যাগী নেত্রীও জায়গা পাবেন।

জ্যেষ্ঠ নেত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সেলিমা রহমান, যিনি ২০০১ সালে সংরক্ষিত আসনে এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন। মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক ডা. সৈয়দা তাজনিন ওয়ারিস সিমকীর নামও প্রথম সারিতে রয়েছে। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদের নামও আলোচনায় উঠেছে।

সাবেক সংরক্ষিত আসনের এমপিদের মধ্যে ফেনী থেকে রেহানা আক্তার রানু, জামালপুর থেকে নিলোফার চৌধুরী মনি, মাগুরা থেকে নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মাদারীপুর থেকে হেলেন জেরিন খান, ঢাকা থেকে সুলতানা আহমেদ, চাঁদপুর থেকে রাশেদা বেগম হীরা, হবিগঞ্জ থেকে শাম্মী আক্তার, বরিশাল থেকে বিলকিস জাহান শিরিন এবং সিরাজগঞ্জ থেকে কনক চাঁপা ও নীলফামারী থেকে বেবী নাজনীনের নাম আলোচনায় রয়েছে। কণ্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভিনের নামও তালিকায় উঠে এসেছে।

তরুণ প্রজন্মের নেত্রীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ও মহিলা দলের সাবেক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, গৌরীপুর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান তানজিন চৌধুরী লিলি, শেরেবাংলার নাতনি ফাহসিনা হক লিরা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা এবং ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী সাবরিনা বিনতে আহমেদ বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছেন। চট্টগ্রাম থেকে সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা ও মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনিও আলোচনায় রয়েছেন। এ ছাড়া বরগুনা থেকে অ্যাডভোকেট আসমা আজিজ, রাজশাহী থেকে মাহমুদা হাবিবা ও শামসাদ বেগম মিতালী, লক্ষ্মীপুর থেকে বীথিকা বিনতে হুসেইন, মানিকগঞ্জ থেকে মনিরা আক্তার রিক্তা, কুমিল্লা থেকে হেনা আলাউদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ থেকে অ্যাডভোকেট সালমা আক্তার সোমা, নরসিংদী থেকে শাহিনুর নার্গিস ও নিলুফা ইয়াসমিন নিলু, নোয়াখালী থেকে অ্যাডভোকেট শাহিনুর বেগম সাগর, বান্দরবান থেকে শিরিনা আক্তার এবং বিএনপির সাবেক নেতা মরহুম হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরীসহ আরও অনেকের নাম উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সংরক্ষিত নারী আসন ১০০তে উন্নীতের প্রস্তাব সংসদে পাস না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী ৫০টি আসনেই নির্বাচন হবে এবং এতে কোনো সাংবিধানিক বাধা নেই। দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, মনোনয়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে হাইকমান্ড এবং সেখানে রাজনৈতিক ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তিনটি বিষয়কেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!