অর্থবছরের ৭ মাসে রেকর্ড ১৯.৪৪ বিলিয়ন ডলার

জানুয়ারিতেও তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
জানুয়ারিতেও তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স

 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ডিসেম্বরের পর জানুয়ারি মাসেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ৩.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছে। এর আগে ডিসেম্বর মাসে এসেছিল ৩.২২ বিলিয়ন ডলার

সাধারণত রমজান ও ঈদুল ফিতরের সময় প্রবাসীদের আয় দেশে পাঠানোর প্রবণতা বাড়ে। কিন্তু এবার এই বৃদ্ধির পেছনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটও কাজ করেছে বলে মনে করছেন ব্যাংক কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদরা। এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হয়েছে।

ইতিহাসে তৃতীয় মাসে এই রেকর্ড

দেশের ইতিহাসে এ নিয়ে তৃতীয় মাস যখন একক মাসে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। এর আগে:

  • গত বছরের রমজান-ঈদের মাস মার্চে এসেছিল ৩.৩০ বিলিয়ন ডলার (একক মাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ)।

  • এবারের জানুয়ারির রেমিট্যান্স আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৪৫% বেশি। গত বছর জানুয়ারিতে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন মাত্র ২.১৮ বিলিয়ন ডলার

এই তুলনামূলক চিত্র দেখুন:

মাস ২০২৫ (বিলিয়ন $) ২০২৬ (বিলিয়ন $) বৃদ্ধি (%)
ডিসেম্বর - ৩.২২ -
জানুয়ারি ২.১৮ ৩.১৭ ৪৫%
মার্চ (২০২৫) ৩.৩০ - সর্বোচ্চ

অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে রেকর্ড প্রবাসী আয়

নির্বাচনের আগে প্রবাসী আয়ের এই বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে চলতি অর্থবছরের মোট রেমিট্যান্সে। জুলাই-জানুয়ারি (প্রথম ৭ মাসে) প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন মোট ১৯.৪৪ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১৫.৯৬ বিলিয়ন ডলার

বৃদ্ধির হিসাব:

  • মোট বৃদ্ধি: ৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার

  • শতকরা: ২১.৭৬%

পূর্ববর্তী অর্থবছরে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রেমিট্যান্স ২৬.৮৩% বেড়েছিল। এবারকার এই প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে, আমদানি খরচ মেটাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি পূরণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নির্বাচনী পরিবেশ সত্ত্বেও অর্থনীতির ইতিবাচক সংকেত।

কেন বাড়ছে রেমিট্যান্স? ব্যাংকের উদ্যোগ ও হুন্ডি নিয়ন্ত্রণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানান:

  • অর্থ পাচার রোধে কঠোর অবস্থান: কেন্দ্রীয় ব্যাংক হুন্ডি-হালালাহ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে।

  • ঋণের নামে আত্মসাৎ রোধ: ব্যাংকগুলোতে অবৈধ অর্থ লেনদেনের লুপ্তি ঘটাতে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

  • ফলাফল: হুন্ডিপ্রবণতা কমায় বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাহ বেড়েছে। প্রবাসীরা এখন সরাসরি মোবাইল ওয়ালেট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে অর্থ পাঠাচ্ছেন।

এছাড়া নির্বাচনী পরিবেশে দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রবাসীদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বলেও অর্থনীতিবিদরা মত প্রকাশ করেছেন।

রিজার্ভ বাড়ল, ডলারের দর স্থিতিশীল

রেমিট্যান্সের এই বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে:

  • গত ২৯ জানুয়ারি গ্রস রিজার্ভ: ৩৩.১৮ বিলিয়ন ডলার

  • বিপিএম৬ অনুযায়ী (নীট রিজার্ভ): ২৮.৬৮ বিলিয়ন ডলার

আমদানিতে ৬% এর বেশি প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও ডলার সংকট নেই। দীর্ঘদিন ধরে ডলারের বাজারমূল্য ১২২ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। এটি আমদানি-রপ্তানি ভারসাম্য এবং মুদ্রা বাজারের স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অর্থবছরের রেমিট্যান্স ট্রেন্ড (প্রথম ৭ মাস):

অর্থবছর মোট রেমিট্যান্স (বিলিয়ন $) বৃদ্ধি (%)
২০২৪-২৫ ১৫.৯৬ -
২০২৫-২৬ ১৯.৪৪ ২১.৭৬

এই প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হলেও সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করছেন—হুন্ডি নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখতে এবং প্রবাসীদের আরও সুবিধা দিতে হবে যাতে এই প্রবাহ টেকসই হয়।

 

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!