চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে ১২টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) তথা দ্বিতীয় পর্যায়ের বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে।
মেয়র এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) নগরীর সদরঘাট থানার পাশে একটি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করতে পরিকল্পিতভাবে এসব এসটিএস নির্মাণ করা হচ্ছে।
এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে ওয়ার্ড ভিত্তিক প্রাথমিক সংগ্রহ পয়েন্ট থেকে সংগৃহীত বর্জ্য সাময়িকভাবে সংরক্ষণ, বাছাই ও সংহত করে বৃহৎ পরিবহনযানে তুলে চূড়ান্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থাপনায় পাঠানো হবে। এতে পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি নগরীর সড়ক ও জনবসতিতে ময়লার চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
তিনি বলেন, সদরঘাটের পাশাপাশি কাজীর দেউড়ি বিএনপি কার্যালয় এলাকা, কাতালগঞ্জ, নাসিরাবাদ, মোহরার খেজুরতলা, দামপাড়া শিল্পকলা একাডেমি, দক্ষিণ বাকলিয়াসহ নগরীর মোট ১২টি স্থানে পর্যায়ক্রমে এই ধরণের দ্বিতীয় পর্যায়ের বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে।
মেয়র বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে- বর্জ্যগুলো এমনভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা, যাতে তা সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে থাকে। মানুষের চোখ ও নাক একসঙ্গে কোনো কিছুর সংস্পর্শে এলে দুর্গন্ধের অনুভূতি বেড়ে যায়। এটি একটি শারীরবৃত্তীয় বিষয়। আমরা এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করেছি, যাতে শহরও পরিষ্কার থাকে, মানুষও দুর্গন্ধজনিত ভোগান্তি থেকে মুক্ত থাকে।”
মেয়র আরও বলেন, “এই শহরকে পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব শুধু সিটি কর্পোরেশনের নয়। সবাইকে এই শহরকে নিজের শহর মনে করে এগিয়ে আসতে হবে। মিলেমিশে কাজ করলেই, আমরা একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে পারব।”
মেয়র ডা. শাহাদাত জানান, “দীর্ঘ প্রায় দুই থেকে আড়াই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ৭টি ব্যাকহোল লোডারসহ বড় আকারের যান-যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করেছে। পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম বেগবান করতে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। যদি তা বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে নগরীকে আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব হবে।”
অনুষ্ঠানে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, নির্বাহী প্রকৌশলী আনু মিয়া, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, এসটিএস নির্মাণের সার্বিক সহযোগিতাকারী আর কে লিটন, কেওয়াই স্টিলের ডেপুটি ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার অভিষেক সেনগুপ্তসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




































