বাংলাদেশের পোশাকের ব্যবসা দখলের আশায় ভারত


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
বাংলাদেশের পোশাকের ব্যবসা দখলের আশায় ভারত

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপের বাজারে শুল্ক সুবিধা পাওয়ার লোভে ভারত এগোচ্ছে। এই চুক্তির ফলে ভারতীয় পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি বাড়লে বাংলাদেশের পোশাক খাতে নতুন প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। প্রায় দুই দশকের আলোচনার পর গত মঙ্গলবার ইইউ-ভারত চুক্তি সইয়ের ঘোষণা হয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় কাউন্সিল, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ভারতের সংসদের অনুমোদন পেলে ২০২৭ সাল থেকে চুক্তিটি কার্যকর হবে। চুক্তির আওতায় ইইউর ২৭টি দেশের বাজারে অধিকাংশ ভারতীয় পণ্য বিশেষ শুল্ক সুবিধা পাবে। বিশেষ করে পোশাকপণ্যের উপর বর্তমান ১২ শতাংশ শুল্ক শূন্যে নামানো হবে। চামড়াজাত পণ্য, সামুদ্রিক পণ্য, হস্তশিল্প ও গয়নার মতো খাতেও শুল্ক হ্রাস বা বিনা শুল্কে প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে।

ভারতের গণমাধ্যম জি নিউজ জানায়, এই সুবিধা নিয়ে ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির বড় অংশ দখলের কৌশল গড়ছে ভারত। ১৯৭৫ সাল থেকে এলডিসি বাণিজ্য সুবিধায় ইউরোপে অগ্রাধিকার পেয়ে বাংলাদেশ ইইউর দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক সরবরাহকারী হয়েছে। ডেনিম, ট্রাউজার ও টি-শার্টে চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। ইইউতে শীর্ষ রপ্তানিকারকদের তালিকায় চীনের পর বাংলাদেশ, তারপর তুরস্ক, ভারত, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, মরক্কো, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৫০ শতাংশেরও বেশি (প্রায় ১৯৭১ কোটি ডলার) গেছে ইইউ দেশগুলোতে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বলেছেন, এই চুক্তিতে ইউরোপে ভারতের টেক্সটাইল রপ্তানি ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০-৪০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়া সম্ভব। তাঁর ভাষায়, ‘বাংলাদেশ কীভাবে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইউরোপে বাজার দখল করেছে—এ প্রশ্ন আমাদের করা হতো।’

বাংলাদেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা এরপরও আতঙ্কিত নন। বিজিএমইএ পরিচালক ও সুরমা গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলছেন, দর, কাজের মান ও উৎপাদন সক্ষমতায় বাংলাদেশ ভারতের থেকে অনেক এগিয়ে। ভারতীয় পণ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ধরন অনেক আলাদা; বাংলাদেশ মূলত লো-মিড রেঞ্জের পোশাক রপ্তানি করে, নিট পোশাকে কিছু প্রতিযোগিতা থাকলেও তাৎক্ষণিক বড় ঝুঁকি নেই।

তবে প্রতিযোগিতা বাড়লে ক্রেতাদের পক্ষ থেকে ১০-১২ শতাংশ দাম কমানোর চাপ আসতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। এর মোকাবিলায় খরচ কমানো, ঋণের সুদহার হ্রাস, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে বলে ফয়সাল সামাদের পরামর্শ। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে এই চ্যালেঞ্জকে সুযোগে রূপান্তরিত করা সম্ভব বলেও তিনি মত প্রকাশ করেছেন।

Link copied!