সংকটে একুশে বইমেলা!


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
সংকটে একুশে বইমেলা!

বইমেলার সময়সূচি ঘিরে তৈরি হয়েছে ত্রিমুখী সংকট—সিদ্ধান্ত, দাবি আর পাল্টা দাবিতে অমর একুশে বইমেলা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। একদিকে দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরুর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ জমেছে, অন্যদিকে রমজান ও অর্থনৈতিক মন্দার যুক্তিতে মেলা ঈদুল ফিতরের পর করার দাবিও জোরালো হচ্ছে। ফলে প্রকাশকদের একাংশ বাংলা একাডেমি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে, আর সব মিলিয়ে আয়োজন নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা।

১ ফেব্রুয়ারির দাবিতে অনড় ‘সংগ্রাম পরিষদ’
ঐতিহ্য রক্ষার যুক্তিতে ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই বইমেলা শুরুর দাবিতে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ’। বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ লেখক কর্নারে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে তারা জানায়, ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী ‘প্রতীকী বইমেলা’ হবে। কর্মসূচিটি উদ্বোধনের কথা রয়েছে ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর।

সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুর রহমান লালটু লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, যারা দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়, তারাই বইমেলার ধারাবাহিকতা ভাঙতে তৎপর। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন বা নিরাপত্তাকে সামনে রেখে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরুর সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক এবং ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

পাল্টা দাবি: মেলা ঈদের পর করার চাপ
অন্যদিকে সৃজনশীল প্রকাশকদের একটি বড় অংশ বলছে—বর্তমান রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে মেলা আরও পিছিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস) এবং সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি আলাদাভাবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে বলে জানা গেছে।

তাদের যুক্তি, রমজানে বইমেলা হলে পাঠকসমাগম কমে যেতে পারে এবং প্রকাশনা শিল্প আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ফেব্রুয়ারিতে মেলা আয়োজনকে তারা ঝুঁকিপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেছে। ২৬২ জন প্রকাশকের স্বাক্ষরসংবলিত আবেদনে বলা হয়েছে, এখনই অধিকাংশ প্রকাশক মেলা আয়োজনের পক্ষে নন; তারা চান ঈদুল ফিতরের পর সুবিধাজনক সময়ে মেলা হোক।

প্রকাশকদের বিভক্তি, তীব্রতা বাড়ছে
বইমেলা নিয়ে অবস্থানভেদে প্রকাশকদের মধ্যে বিভক্তি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে ‘সুবিধাবাদী’ বলেও আখ্যা দিয়েছে। বাপুসের বক্তব্য—কিছু প্রকাশক নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে পুরো শিল্পকে ঝুঁকিতে ফেলছেন। পাল্টা দিকে সংগ্রাম পরিষদের অভিযোগ, অংশীজনদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে ২০ ফেব্রুয়ারি শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অনিশ্চয়তায় লেখক-পাঠক
বাংলা একাডেমি ২০ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরুর সিদ্ধান্তে অনড় থাকলেও প্রকাশকদের পাল্টাপাল্টি অবস্থান মেলার সাফল্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে—মেলা নির্ধারিত সময়ে হবে, নাকি পিছিয়ে যাবে—তা নিয়ে সাধারণ পাঠকের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও সংশয়। আন্দোলনের হুঁশিয়ারি এবং অনমনীয় অবস্থান বইমেলার আয়োজনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে, উত্তপ্ত করে তুলেছে মেলাকেন্দ্রিক প্রকাশনার পরিবেশও।

Link copied!