গুলশানে রড পড়ে যুবকের মৃত্যু

কনকর্ডের বিরুদ্ধে মামলা, দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে তারা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
কনকর্ডের বিরুদ্ধে মামলা, দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে তারা

রাজধানীর গুলশানের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে রড পড়ে মো. আশফাকুজ্জামান চৌধুরী নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় কনকর্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান এস এম কামাল উদ্দিন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার কামালসহ একাধিককে আসামি করে গুলশান থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে চরম দায়িত্বহীনতা এবং অপরাধমূলক অবহেলার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, যা কোনোভাবেই এড়ানোর উপায় ছিল না।

 

গত  ২২ জানুয়ারি) দুপুর ২টা থেকে ২টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে গুলশান-১ এলাকার ১৪০ নম্বর সড়কের ২২ নম্বর বাড়ির সামনের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকাকালীন নির্মাণাধীন ভবনের উপর থেকে একটি রড তাঁর মাথায় আঘাত করে। যা এতটাই গভীরভাবে ঢুকে যায় যে সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সহকর্মীদের দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া সত্ত্বেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ৩৫ বছর বয়সী আশফাকুজ্জামান চৌধুরী গুলশানে একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বরুমচড়া গ্রামে। পরদিন শুক্রবার তাঁর শ্বশুর মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন, যাতে কনকর্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান এস এম কামাল উদ্দিন (৭২) এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার কামাল (৪৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ১০-১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

 

 

মামলায় কনকর্ডের নির্মাণাধীন ২৫তম কনকর্ড এমবিআই স্কাইলাইন ভবন থেকে রড পড়ার অভিযোগ তুললেও কনকর্ড গ্রুপ লিখিত বক্তব্যে দাবি করেছে যে ঘটনার সময় রডটি তাদের ভবন থেকে পড়েনি। বরং সামনের ক্রিস্টাল প্লেস ভবন থেকে পড়েছে। কনকর্ড গ্রুপের এই বক্তব্য স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, কারণ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে সেখানে কনকর্ডের নির্মাণাধীন ভবন ছাড়া অন্য কোনো নির্মাণাধীন ভবন নেই এবং কাঁচ পরিষ্কারের বিষয়টি এনে দায় এড়ানোর চেষ্টা অগ্রহণযোগ্য বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। তারা কনকর্ড গ্রুপকেই পুরোপুরি দায়ী করে বোঝাচ্ছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবের জন্য তাদের দোষারোপ করছেন।

 

আজ দুপুরে গুলশান বিভাগের উপকমিশনার রওনক আলম, সহকারী কমিশনার আলী আহমেদ মাসুদ এবং গুলশান থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসান ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্তারিত পরিদর্শন করেন এবং প্রমাণ সংগ্রহ করেন। পরে উপকমিশনার রওনক আলম বলেন, মামলা দায়ের হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন—তদন্তের ফলাফলের পর বিস্তারিত জানানো যাবে। এই ঘটনা রাজধানীর একটি  ব্যবসায়িক এলাকায় নির্মাণকাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যাতে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার হোক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধ করা যায়।

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!