কলম্বিয়ায় উড়োজাহাজ বিধ্বস্তে দেশটির এমপিসহ নিহত ১৫


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
কলম্বিয়ায় উড়োজাহাজ বিধ্বস্তে দেশটির এমপিসহ নিহত ১৫

কলম্বিয়ার উত্তরাঞ্চলে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় দেশটির সংসদ সদস্য দিওজেনেস কুইনতেরোসহ মোট ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা লাতিন আমেরিকার এই দেশে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় দুপুর ১১টার দিকে ভেনেজুয়েলা সীমান্তবর্তী কুকুটা শহর থেকে ওকানা শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রীবাহী বিমানটি অবতরণের সময় পাহাড়ি এলাকায় আছড়ে পড়ে বিধ্বস্ত হয় এবং বিস্ফোরণ ঘটে।

 

দুর্ঘটনার শিকার বিমানটি কলম্বিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান পরিষেবা সংস্থা সাতেনার বিচক্রাফট ১৯০০ টুইন-ইঞ্জিন টার্বোপ্রপ ফ্লাইট (এনএসই ৮৮৪৯), যাতে ১৩ জন যাত্রী এবং ২ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে ছিলেন ৩৬ বছর বয়সী এমপি দিওজেনেস কুইনতেরো, যিনি দেশের অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাতের শিকার ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব করতেন এবং মার্চ মাসের আসন্ন সংসদ নির্বাচনে কংগ্রেস সদস্যপদের প্রার্থী কার্লোস সালসেদোসহ তাঁর দলীয় সদস্যরা। কলম্বিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সাতেনা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে কোনো যাত্রী বেঁচে নেই, এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করছে।

 

বিমানটি স্থানীয় সময় দুপুর ১১:৪২ মিনিটে কুকুটা বিমানবন্দর থেকে উড়ে উত্তীর্ণ হয় এবং প্রায় ১১-১২ মিনিট পর অবতরণের ১১ মিনিট আগে কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থলটি নোর্তে দে সান্তান্দার প্রদেশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত, যেখানে কোকেন উৎপাদনের জন্য পরিচিত কোকা চাষ এবং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন) এবং বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী (এফএআরসি) এর বিচ্ছিন্ন অংশের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। এএফপি’র প্রত্যক্ষদর্শী এবং দুর্যোগ মোকাবিলা দলের বরাতে জানা গেছে, বিমানটি আকাশে প্রবেশের পর হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ে আছড়ে পড়ে বিস্ফোরিত হয়, এবং ঘটনাস্থলের ছবিতে বিমানের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়া দেখা যায়।

 

কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনী এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং খারাপ আবহাওয়ার কারণে কাজে বিলম্ব হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে বলেছেন, "এই মৃত্যুর জন্য গভীরভাবে দুঃখিত, পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানাই এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করি।" কুইনতেরোর দলের নেতারা তাঁকে সম্প্রদায়ের প্রতি নিবেদিত একজন অধিকার রক্ষাকারী হিসেবে স্মরণ করছেন, যিনি ২০২২ সালে নির্বাচিত হয়ে সংঘাতপীড়িত এলাকার শিকারদের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। দুর্ঘটনার কারণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি, তবে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিমানের জরুরি বীকন সক্রিয় না হওয়া রহস্য বাড়িয়েছে।

Link copied!