রমজানের আগেই মুরগি, পোলাও চালের দাম চড়া


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
রমজানের আগেই মুরগি, পোলাও চালের দাম চড়া

রমজান সামনে থাকলেও রাজধানীর বাজারে সব পণ্যে একসঙ্গে অস্থিরতা নেই; কোথাও দাম চড়েছে, কোথাও আবার স্বস্তিও মিলছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালী ও নাখালপাড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক মাস সহনীয় থাকা মুরগির বাজার রোজার আগেই ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে; পাশাপাশি সুগন্ধি পোলাও চালের দামও বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। তবে গত সপ্তাহে বেড়ে যাওয়া ছোলা ও অ্যাংকর ডালের দামে কিছুটা ছাড় এসেছে, সবজির বাজারেও কমবেশি স্বস্তি আছে। ডিমের দাম স্থিতিশীল এবং মাছ-মাংসের বেশির ভাগ আইটেম আগের মতোই স্বাভাবিক দরে পাওয়া গেলেও ইলিশ ও চিংড়িতে উচ্চদামের চাপ রয়ে গেছে।

বেশ কয়েক মাস মুরগির দাম তুলনামূলক সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও রোজার মাস আসার এক মাসখানেক আগে থেকেই দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত দুই সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির কেজিতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। এখন বাজারে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়, যেখানে দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে। একই সময়ে সোনালি জাতের মুরগির দামও বেড়েছে। বর্তমানে সোনালি মুরগি কিনতে কেজিতে গুনতে হচ্ছে ২৭০ থেকে ৩০০ টাকা, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা। তবে মুরগির দাম বাড়লেও ডিমের বাজার আপাতত স্বস্তিদায়ক। ফার্মের বাদামি ডিমের ডজন ১১০ টাকার কাছাকাছি এবং সাদা ডিমের ডজন ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। গরুর মাংসও মোটামুটি আগের ধারায়—কেজি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

রোজা আসতে এখনো সপ্তাহ তিনেক বাকি থাকলেও পোলাও চালের বাজারে চাপ দেখা দিয়েছে আগে থেকেই। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এই সুগন্ধি চালের কেজিতে বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। খোলা পোলাও চাল এখন বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৩৮ থেকে ১৪০ টাকায়। প্যাকেটজাত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে দাম আরও বেশি—ব্র্যান্ডভেদে কেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। সরু বা মিনিকেট চালের দামও আগের মতোই চড়া; কেজি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে স্বস্তির জায়গা হলো মাঝারি ও মোটা চাল, যেগুলোর দাম কিছুটা কমেছে—মোটা চাল কেজি ৫২ থেকে ৫৩ টাকা এবং মাঝারি চাল ৫৫ থেকে ৫৬ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। কারওয়ান বাজারের এক চাল ব্যবসায়ী জানান, গত এক মাস ধরে পোলাও চালের দাম বাড়তি; ৫০ কেজির বস্তায় ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। একই সঙ্গে ব্র্যান্ডগুলোও প্যাকেটজাত চালের খুচরা দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকার মতো বাড়িয়েছে। তবে এক মাস আগের তুলনায় মাঝারি ও মোটা চালের কেজিতে দুই-তিন টাকা কমার কথাও জানান তিনি।

ডালের বাজারে গত ১৫-২০ দিনে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, চলতি সপ্তাহে সেখানে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সপ্তাহ দুয়েক আগে ছোলার কেজি ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা; পরে বেড়ে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় উঠলেও এখন আবার আগের দরে নেমে এসেছে—কেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকার মধ্যেই দেখা যাচ্ছে। তবে ছোলার ডালের দাম অপরিবর্তিত; কেজি ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অ্যাংকর ডালের ক্ষেত্রেও কেজিতে পাঁচ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকায়। বড় দানার মসুর ডালের দামও কিছুটা নেমেছে—কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা কমে এখন ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মহাখালীর এক ডাল বিক্রেতার মতে, রোজার আগে ছোলা-ডালের দাম সাধারণত বেড়ে যায়, পরে বিক্রি কমে এলে ধীরে ধীরে দামও নামতে থাকে—এবারও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

সবজির বাজারে শীতকালীন পণ্যের সরবরাহ থাকায় দামের চাপে খুব বেশি অস্বাভাবিকতা নেই। অধিকাংশ সবজি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে, কিছু সবজিতে গত সপ্তাহের তুলনায় দাম কমও দেখা গেছে। নতুন আলু গত সপ্তাহে কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ২০ থেকে ২৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মান ও জাতভেদে শিম কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শালগম ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং বেগুন ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে—যেখানে আগের সপ্তাহে এসব পণ্যে অন্তত কেজিতে ১০ টাকা বেশি দিতে হয়েছিল অনেককে। বরবটির দাম তুলনামূলক বেশি—কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা। টমেটোর দাম আরও কমে কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় নেমেছে। আকারভেদে ফুলকপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় মিলছে। মুলা কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

মাছের বাজারে সামগ্রিকভাবে খুব বড় অস্থিরতা না থাকলেও ইলিশ বরাবরের মতোই চড়া। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ৯০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে রুই-কাতলা কেজি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তেলাপিয়া ও চাষের কই মাছ কেজি ২০০ থেকে ২৪০ টাকা এবং পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়িতে দাম বেশি—আকার ও জাতভেদে কেজি ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।

সব মিলিয়ে রমজানের আগে বাজারে “মিশ্র চিত্র” স্পষ্ট—মুরগি ও পোলাও চালের মতো উচ্চচাহিদার পণ্যে দাম বাড়ছে, আবার ছোলা-ডাল ও বেশ কিছু সবজিতে ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন; ডিম এবং বেশির ভাগ মাছ-মাংস মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও ইলিশ ও চিংড়ি আগের মতোই উচ্চদামে রয়েছে।

Link copied!