ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, সাইবার বুলিং ও মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এটিকে শিশুদের সুরক্ষার 'গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক' বলে অভিহিত করেছেন।
পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে গতকাল সোমবার রাতভর অধিবেশনের পর বিলটি পাস হয়—পক্ষে ১৩০ ভোট, বিপক্ষে ২১। এখন এটি উচ্চকক্ষ সিনেটে যাবে, যেখানে পাস হলে আইনে রূপ নেবে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শুরু (সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর করা।
বিলটি ১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের 'সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ফিচার' থেকে নিষিদ্ধ করবে। এর আওতায় পড়বে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্ম। ব্যতিক্রম: অনলাইন ভারসাম্যকোষ (যেমন উইকিপিডিয়া) ও শিক্ষামূলক সাইট।
হাইস্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ (পূর্বের প্রাইমারি স্কুল নিষেধাজ্ঞা প্রসারিত)।
প্ল্যাটফর্মগুলোকে কার্যকর বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হবে; ইউরোপীয় পর্যায়ে এর কাজ চলছে।
বিদ্যমান অ্যাকাউন্ট বন্ধে প্ল্যাটফর্মগুলোকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আতাল আশা প্রকাশ করেছেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যে সিনেট পাস করবে যাতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়।
এক্সে পোস্টে ম্যাক্রোঁ বলেন, "আমাদের শিশু-কিশোরদের মন বিক্রির পণ্য নয়—না আমেরিকান কোম্পানির, না চীনা অ্যালগরিদমের জন্য।" গত শনিবার ভিডিওতে তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া যুব সহিংসতার কারণ।
শিশু সুরক্ষা সংগঠনগুলো (৯টি) নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে প্ল্যাটফর্মগুলোকে জবাবদিহিমূলক করার দাবি তুলেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এলিজাবেথ বর্ন স্কুল নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না হলে নতুনটি চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করেন।
ফ্রান্স এভাবে দ্বিতীয় দেশ হতে যাচ্ছে। গত ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন শিশুদের বিকাশে ক্ষতি করে, বিশেষ করে মেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্যে (সাইবারবুলিং, অশ্লীল কনটেন্ট)। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য সংস্থা এনএসইএস এই ঝুঁকি তুলে ধরেছে।






































