এমএসএফের প্রতিবেদন

মব–গণপিটুনিতে জানুয়ারিতে নিহতের সংখ্যা দ্বিগুণ


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
মব–গণপিটুনিতে জানুয়ারিতে নিহতের সংখ্যা দ্বিগুণ

গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে গণপিটুনি বা মব সন্ত্রাসে নিহতের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। একই সময়ে বেড়েছে অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের ঘটনাও।

শনিবার প্রকাশিত এমএসএফের জানুয়ারি মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ও নিজস্ব অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সংগঠনটি প্রতি মাসে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে মব বা গণপিটুনির ২৮টি ঘটনা ঘটে, যাতে নিহত হন ২১ জন। এর আগের মাস ডিসেম্বরে ২৪টি ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ছিল ১০। এমএসএফ বলছে, মব সন্ত্রাসে নিহত ও আহতের সংখ্যা বৃদ্ধি আইনশাসনের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন।

এমএসএফ মনে করে, গণপিটুনির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড স্পষ্টতই একটি ফৌজদারি অপরাধ, যা বিচারবহির্ভূত হত্যার শামিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জানুয়ারি মাসে ৫৭টি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে ডিসেম্বরে এ সংখ্যা ছিল ৪৮। সংগঠনটির মতে, অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের হার বৃদ্ধি সমাজে সহিংসতা, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি জানুয়ারিতে কারা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে ১৫ হয়েছে, যা ডিসেম্বরে ছিল ৯।

মামলায় আসামির সংখ্যা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি

এমএসএফ জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন–সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে কমলেও সরকার পতনের পর সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোতে আসামির সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

জানুয়ারিতে নাম উল্লেখ করা আসামির সংখ্যা ৩০ থেকে বেড়ে ১২০ এবং অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা ১১০ থেকে বেড়ে ৩২০ হয়েছে। এমএসএফের মতে, এই প্রবণতা আইনগত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।

রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা

রাজনৈতিক সহিংসতায় জানুয়ারি মাসে আহতের সংখ্যা ডিসেম্বরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ থেকে ৪–এ দাঁড়িয়েছে। এমএসএফ বলছে, নির্বাচনী সহিংসতা জানুয়ারি মাসে মানবাধিকার পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে।

সংখ্যালঘু নির্যাতন বেড়েছে

জানুয়ারি মাসে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ মাসে প্রতিমা ভাঙচুর, বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত করা ও মামলা–সংক্রান্ত মোট ১৫টি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ডিসেম্বরে ছিল মাত্র ৪টি।

সংগঠনটির মতে, এটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পুনরুত্থান এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।

সামগ্রিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

এমএসএফের মূল্যায়নে, জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও জটিল ও সহিংস হয়ে উঠেছে। প্রায় সব সূচকেই ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

এমএসএফের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল দায়িত্বে ঘাটতির পাশাপাশি মব সন্ত্রাস ও অজ্ঞাতনামা লাশের ঘটনা বাড়ছে, কিন্তু এসব প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

Link copied!