ইসরায়েলের কাছে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ১২:১৫ এএম
ইসরায়েলের কাছে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সঙ্গে চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েল ও সৌদি আরবের কাছে কয়েক শ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই অনুমোদনের ঘোষণা দেয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ইসরায়েলের কাছে ৩৮০ কোটি ডলার মূল্যের ৩০টি অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দেশটির আত্মরক্ষামূলক সক্ষমতা জোরদার করাকে ওয়াশিংটনের জাতীয় স্বার্থের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েলকে শক্তিশালী ও সদাপ্রস্তুত রাখতে সহায়তা করা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রস্তাবিত এই অস্ত্র বিক্রিও সেই নীতিরই অংশ।

এ ছাড়া চুক্তির আওতায় ইসরায়েলের জন্য ১৮০ কোটি ডলার মূল্যের ‘জয়েন্ট লাইট ট্যাকটিক্যাল ভেহিকল’—এক ধরনের আধুনিক, সাঁজোয়া ও বহুমুখী হালকা সামরিক যান—সরবরাহের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর ইসরায়েলকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম দেয়, যার বড় অংশই সরাসরি সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হয়।

একই সময় সৌদি আরবের জন্য ৯০০ কোটি ডলার মূল্যের ৭৩০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এই ক্ষেপণাস্ত্র আকাশপথে সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়।

গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা গাজায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধের তীব্রতা কিছুটা কমিয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নিকটবর্তী জলসীমায় বড় ধরনের সামরিক বহর মোতায়েন করেছে।

গত বছর ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালায় ইসরায়েল। অন্যদিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন ও প্রাণহানির ঘটনায় ইরান আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে।

ইরানের মিত্র না হলেও দেশটির ওপর সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব। উপসাগরীয় দেশগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের সংঘাত তাদের ব্যবসায়িক পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের উদ্যোগও বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, গাজায় যুদ্ধবিরতি এখন দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন, যাঁদের বেশির ভাগই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক। এর জবাবে গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭১ হাজার ৬৬৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

Link copied!