নির্বাচনের তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি করবে অন্তর্বর্তী সরকার


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম
নির্বাচনের তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি করবে অন্তর্বর্তী সরকার

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এই চুক্তি সই হবে। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

এর আগে গত আগস্টে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্কহার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হলেও আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। এবার ওয়াশিংটনে সেই চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হচ্ছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান ঢাকা ছাড়বেন। প্রথমে তারা জাপান সফর করবেন। ৬ ফেব্রুয়ারি টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (বিজেইপিএ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সেখান থেকেই তারা যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে রোববার এ তথ্য জানা গেছে।

সচিবালয়ে রোববার সাংবাদিকদের বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, “৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে চুক্তি সইয়ের তারিখ পাওয়া গেছে। চুক্তির খসড়া ও নির্ধারিত তারিখে সই করার অনুমোদন চেয়ে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে।”

পাল্টা শুল্কের হার কমবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে হার ২০ শতাংশ রয়েছে। কিছু দেশের ক্ষেত্রে এই হার একই, আবার কিছু দেশের ক্ষেত্রে বেশি। আশা করা হচ্ছে হার কিছুটা কমতে পারে, তবে ৯ ফেব্রুয়ারির আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, চুক্তি কার্যকর হলে প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। একইভাবে জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্য বাংলাদেশে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

এদিকে ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাম্প্রতিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে সরকারের উদ্বেগ আছে কি না জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব বলেন, এ বিষয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে ভারত বস্ত্র খাতে শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং বৈশ্বিক বাজারে তাদের বড় ভূমিকা আছে। বাংলাদেশের কাঁচামালের একটি বড় অংশও ভারত থেকে আমদানি করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল

Link copied!