কাদম্বরী দেবীর আত্মহত্যার রহস্য


রাজিন মুনতাসীর
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
কাদম্বরী দেবীর আত্মহত্যার রহস্য

১৮৮৪ সালের ১৯ এপ্রিল আফিম খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন কাদম্বরী দেবী এবং ২১ এপ্রিল মাত্র ২৪ বছর বয়সে মারা যান। জোড়াসাঁকো ঠাকুর পরিবার এই ঘটনা নীরবে ঘিরে রাখে, সম্ভবত রবীন্দ্রনাথের উদ্যোগে সুইসাইড নোট লোপাট হয় এবং কোনো পত্রিকায় খবর ছাপা হয় না।

 

পূর্বনাম মাতঙ্গিনী থেকে কাদম্বরী হয়ে ঠাকুরবাড়ির আধুনিক রূপ গড়েন তিনি। জ্যোতিরিন্দ্রনাথের স্ত্রী হিসেবে ঘোড়ায় চড়ে কলকাতার রক্ষণশীল সমাজে আলোড়ন জাগান, ছাদে ‘নন্দন কানন’ সাজান, পিয়ানো আনেন এবং সন্ধ্যায় গানের আসর বসান। ছোটদের দেখাশোনা, ঘর সাজানো, সাহিত্যপাঠের আসর এবং নাটক ‘এমন কর্ম আর করব না’, ‘বসন্ত উতসব’, ‘মানময়ী’-তে অভিনয়ে অবদান রাখেন। রবীর সঙ্গে স্নেহময় সম্পর্ক ছিল, তাঁর বই পড়ে শোনাতেন রবি, হাতপাখা করতেন কাদম্বরী।

 

কাদম্বরী ছিলেন ইন্ট্রোভার্ট ও সেন্টিমেন্টাল; একবার ছাদ থেকে পড়তে গিয়ে রবী বাঁচান। পরিবারের নারীদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, কর্মচারীর মেয়ে হিসেবে অপমান, সন্তানহীনতার ব্যথা এবং সমাজে উপেক্ষিত জীবন তাঁকে একাকী করে। আফিমের নেশায় পড়েন, স্বামী জ্যোতিরিন্দ্রনাথ নাটকে ব্যস্ত হয়ে দূরে সরে যান। রবীও বিয়ের পর নিজের জীবনে ব্যস্ত। এই একাকিত্বে অতিরিক্ত আফিম খেয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

 

কাদম্বরীর মৃত্যুতে রবী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং কবিতা-গান-গল্পে তাঁর স্মৃতি ধরে রাখেন। জ্যোতিরিন্দ্রনাথও আত্মদগ্ধ হয়ে ৩৫ বছরে সমাজ-সংসার ত্যাগ করে সন্ন্যাসী জীবন যাপন করেন। কথিত রোমান্টিক কাহিনি সত্ত্বেও, বাস্তবে স্বামীর অবহেলা, পরিবারের খোঁটা এবং সন্তানহীনতাই মূল কারণ—যদিও পুরোপুরি অনুমানের উপর নির্ভরশীল।

Link copied!