চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার জন্য বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিলের মধ্যে অন্যান্য দাবিতে শ্রমিক-কর্মচারীরা মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এর ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের এনসিটি, সিসিটি, জেনারেল কার্গো বার্থসহ সব টার্মিনালে পণ্য ওঠানামা, কনটেইনার চলাচল এবং কম্পিউটারাইজড টার্মিনাল অপারেশন সিস্টেম (টিওএস) সব বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর আগে গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) থেকে তিন দিন ৮ ঘণ্টার কর্মবিরতির পর সরকারের কোনো আলোচনা না হওয়ায় কর্মসূচির সময়সীমা বাড়ানো হয়।
আন্দোলনকারী বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন জানান, তিন দফা দাবি হলো: (১) এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল, (২) আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় বদলি করা ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পুরোপুরি পুনর্বহাল, (৩) বিডাও বন্দর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অপসারণ। তিনি বলেন, লাভজনক এনসিটি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলছে।
স্কপের যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল জানান, কর্মবিরতিতে জেনারেল কার্গো বার্থ, সিসিটি, এনসিটি ও কার্গো হ্যান্ডলিং সম্পূর্ণ বন্ধ, যা সরকারের গোপন চুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। বিজিএমইএর সহ-সভাপতি সেলিমুর রহমান বলেন, চার দিন ধরে জেটিতে জাহাজ অপেক্ষায় রয়েছে, আমদানি ব্যয় বাড়ছে এবং রপ্তানি শিডিউল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়ে ব্যবসায়ীরা বড় ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বর্তমানে সিসিটি ও এনসিটি চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) পরিচালনা করছে, কিন্তু ইয়ার্ড থেকে পণ্য সরবরাহ বন্ধ।
সকালে আগ্রাবাদ এলাকায় শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল হয়, যা বন্দর অভিমুখে অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বন্দর কর্মকর্তা জানান, সকালে সিসিটি ও এনসিটিতে সীমিত পণ্য ওঠানামা চলছিল, কিন্তু সকাল ৯:৪৫-এ বিক্ষোভ শুরু হলে সব বন্ধ হয়ে যায় এবং টিওএস পরিচালকরা কাজ না করায় পরিস্থিতি জটিল। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে, সরকারি উদ্যোগ না এলে কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।






































